শরীরটা খুব খারাপ আম্মু! মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা। দুনিয়াদারি সব অন্ধকার দেখছি! তবু ঝাপসা চোখে তোমাকে কয়টা কথা লিখছি। তোমাকে বলব তো আর না। অন্তত তোমার উদ্দেশে লিখে জমিয়ে রাখি।
বহুদিন কাঁদি নাই বলে চোখের জল কিছু জমে ছিল। আমার ভাল্লাগে না আম্মু, গত রাতে ভয়ানক মন খারাপ ছিল। তোমাকে বলি নাই। কী করে বলি? শুনলে তুমিও মন খারাপ করে ফেলবে। সন্ধ্যায় আব্বু কল দিয়ে টাকাপয়সা দেখেশুনে খরচ করার কথা বলল। টাকা নিয়ে মাথাব্যথা নাই আম্মু। আমার জীবনটাই যে খরচ হয়ে যাচ্ছে! এখানে একা পড়ে আছে আমার শরীর, আর ওখানে আমার প্রাণটা তোমার কাছেই পড়ে থাকে। দিন দিন জীবন এত কঠিন হচ্ছে কেন আম্মু? মাঝেমধ্যে বড় অসহায় লাগে!
আমার দিন হয় না, রাত হয় না, জীবন হয় না, মরণ হয় না, দুনিয়া হয় না, আখিরাত হয় না। আমার খালি ভয় হয়। অনেকটুকু ক্ষয় হয়। আর আমার হৃদয়টা! ওটা থেমে থেমে নষ্ট হয়, ভ্রষ্ট হয়। ওষুধ খাইনি। ওষুধে কি আর মাইগ্রেন ভালো হয়? শুনেছি, কারও কারও হয়। কিন্তু আমার হৃদয় নাপা চিনে না, প্যারাসিটামল চিনে না, হিস্টামিন চিনে না।
তুমি ভালো আছ তো আম্মু? তোমার কি এখনো আপনা-আপনি চোখের জল পড়ে বুকের ওপরে? তুমি এত কেঁদো না আম্মু! এই স্বার্থপর পৃথিবীটাতে এখনো যে একটামাত্র কারণে মাঝেমধ্যে বেঁচে থাকতে মনে চায়; সেটা হলো ‘তুমি’। এ কথাটা অন্তত তোমার জেনে রাখা প্রয়োজন আম্মু!
৭ মে, রাত ১২টা ৩০
আন্তর্জাতিক ছাত্রী হোস্টেল, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, নয়াদিল্লি
সহসভাপতি, দিল্লি স্টেট বন্ধুসভা, ভারত