কালের শিকল

অলংকরণ: আরাফাত করিম

আমাকে পেছন পানে টেনে নিয়ে যায় কেউ
অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে চলি
হাঁটুজল, কোমরজল, বুকজলে, গলাজলে
এরপর ডুবে যাব দাবানলে, দাউ দাউ আগুনে
শিকড়ে পড়ে টান
কোথায় উত্থান, কোথায় পতন জানি না কিছুই
সম্মুখে এগোতে চেয়েছি যতবার
পায়ে পায়ে বেজে উঠেছে কালের শিকল
পাখির পালকে রক্ত দিয়ে লিখে আমি আর
কতটা ইতিহাস ডিঙাব?
ছেনি হাতুড়ি দিয়ে পাথরের বুকে ঠুকে ঠুকে
অন্তিম গুহাপথের সন্ধান কি পাব?
মাটির পৃথিবী এত কেন ধসে ধসে পড়ে
এই নরম রক্ত–মাংসের শরীর পুড়ে যাচ্ছে, পুড়ে যাচ্ছে
পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে, ভীষণ সে এক জ্বরে
ঠাঁই দাও, ঠাঁই দাও অনন্ত সত্তার হে কোমল, হে কঠিন কারুকৃৎ মহাকাল
আজ নয় কাল, আমিও আমার শবের ওপরে বীজফাটা কবরে, একটা গাছ হব
করবী ফুলের সুবাস, নিভৃত আবাস, বিষের জ্বালার মতন
যে পাতা ঝরবে তখন জানবে আমারই, শুধু আমারই
কবিতার পাতার স্নিগ্ধ–সতেজ শব্দমিথুন
লাবণ্যে তরতর শিশির ঝরে পড়ে
বকের অক্ষরে, গাঙচিলের অক্ষরে, বেণুবনে মর্মর
রোদের স্বাক্ষর মিটিয়ে সত্বর আলোর গতিপথ হব
হে আমার আলো, হে আমার প্রতিটি দিন
বিবেক বৈরাগ্যে কালো, ঘন কালো
আর কতকাল আর কতকাল
পেছন পানে আত্মসন্ধানে
পায়ে ঝনঝন, বুকে–পিঠে, শিরদাঁড়ায় ব্যথায় টনটন ছুটিয়ে নিয়ে যাবে?