নভেম্বরের রেইন

অলংকরণ: প্রথম আলো

অজানা শঙ্কা আর ভয়ংকর নিস্তব্ধতায় ঘেরা চারপাশ। পুরো আকাশ ছেয়ে গেছে কালো মেঘেদের দল। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় যেন নেমে আসছে রাজ্যের শীতলতা। বাতাসের প্রবল হিল্লোলে শূন্যে উড়ছে ডালের মজবুত সবুজ পাতারা। জমিনে ভেঙে পড়ছে গাছের পুরু ডালগুলো। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সদ্য আগত সোনারাঙা হেমন্তের সুর। মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে ছোট ও মাঝবয়সী ধানগাছগুলো। কোথাও যেন আর দাঁড়িয়ে নেই একটি ধানও। বৃষ্টির পানি ও কাদা তো আছেই। কৃষকদের দুরুদুরু মন। এবার আসবে তো সোনা ঘরে। চারপাশ ভরে উঠবে তো ফের কাঁচা ধানের মৌ মৌ গন্ধে।

ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে গেছে। থই থই থই ঘন অন্ধকারে ভরে গেছে চারপাশ। কোনো একটি অজ্ঞাত পোকার ক্ষীণ ডাক শোনা যাচ্ছে থেমে থেমে। এটা ঝিঁঝি পোকা হবে না নিশ্চয়ই। শীতের স্নিগ্ধতা নেই এখন। আছে বর্ষার হিন্দোল। বাতাসের তোড়জোড়া।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিরা এসে ভিড় জমায় হৃদয়ের ব্যালকনিতে। কিছুটা সুখের কিছুটা দুঃখের। কিছুটা বর্ষার কিছুটা শীতের। অঝোরে ঝরতে থাকা ঘন বৃষ্টির দিনের। কিংবা সকালের মিহি মিহি ঘন কুয়াশার। এই ঋতু বৈচিত্র্যের মায়াবী ভূখণ্ড যেমনই সবচেয়ে নিকটতম প্রেমাস্পদ, তেমনই ভয়ংকর শত্রুপক্ষও। কখন যে কী হয় বলা যায় না। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে যেমনই বিস্মিত হই, তেমনই শঙ্কিত হই এই প্রকৃতি দেখে।

এই সন্ধ্যার সঙ্গে মিশে আছে কত মিলন ও বিচ্ছেদের স্মৃতি। কত ভয় ও আনন্দের স্মৃতি। এই সন্ধ্যায় মিশে আছে খেলার মাঠ ছেড়ে পড়তে বসার সুখ। মিশে আছে প্রবল ঝড়তুফানের ভয়। মিশে আছে এক আকাশ স্মৃতি–বিস্মৃতির উপাখ্যান।

এ বাদল তাণ্ডব থেমে যাবে। আঁধারের রাত্রি কেটে আবার আসবে সোনালি ভোর। পাখিরা জেগে উঠবে। গাছেরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচবে। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়বে দুষ্ট ছেলেদের দল। বুড়োরা তাকিয়ে দেখবে আকাশে একদমই মেঘ নেই। প্রকৃতি আবার সাজবে হেমন্তের হৃদয়জুড়ানো সৌন্দর্যে। এভাবেই একসময় থেমে যাবে। নভেম্বরের অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ময়কর রেইন।

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম