প্রিয় মিথিলা

প্রথমবারের মতো অনলাইনে চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে অসংখ্য চিঠি এসে জমা হয়। প্রতিযোগিতায় সমন্বয়ক ছিলেন ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হাসান। বিচারকদের যাচাই বাছাইয়ের পর সেরা চিঠিগুলো প্রকাশ করা হলো।

প্রিয় মিথিলা,

প্রথমেই বর্ষার বৃষ্টিস্নাত স্নিগ্ধ সকালের শুভেচ্ছা নিয়ো। কেমন আছ তুমি? আশা করি ভালো আছ। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার পর স্কুলজীবনের বেশ অনেকটা সময় তোমার সঙ্গে কেটেছে। তোমার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত।

মনে পড়ে, সেদিন স্কুলের এসেম্বলির পর ক্লাসের ঘণ্টা পড়লে সবাই যখন হুড়মুড় করে ক্লাসের দিকে ছুটে যাচ্ছিল, আমি দেখলাম তুমি আনমনে জড়সড় হয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলে। হয়তো নতুন বলে তোমার সংকোচ করছিল। আমি তোমার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই তুমি আচমকা চমকে উঠলে। তোমার দগ্ধ চেহারার মধ্যেও একটা অদ্ভুত মায়া ছিল। আমি মৃদু হেসে তোমার দগ্ধ হাতটা ধরে ক্লাসে গেলাম। সেই থেকেই আমরা ভালো বন্ধু হলাম।

একবার তোমার আম্মু আমাদের শহরে ভাড়া বাসা খুঁজছিলেন। আর চমকে দেওয়ার মতো ব্যাপার, আমরা যে বাসায় ভাড়া থাকি, তোমরা সেই বাসার তিনতলায় ভাড়া নিলে। আমার যে কী আনন্দ হয়েছিল!

তুমি আমার সহপাঠী, বন্ধু। পাশাপাশি তোমাদের সঙ্গে প্রতিবেশীর সম্পর্কও গড়ে ওঠে। আমাদের বাসায় তোমাদের নিয়মিত যাতায়াত থাকত। তোমার আম্মুর কাছেই শুনেছি, কী একটা দুর্ঘটনায় মাত্র চার বছর বয়সে তোমার শরীরের অনেকটা জায়গা দগ্ধ হয়। ছোটবেলায় এত বড় দুর্ঘটনা সত্ত্বেও তোমাদের জীবন থেমে থাকেনি। তুমি জীবনকে সহজ করে গ্রহণ করলে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে গেলে। এই আত্মবিশ্বাস তোমার জ্ঞান ও মেধাকে দৃঢ় করে তোলে।
মূলত সব বাধা–বিপত্তির মধ্যে জীবন সহজ করে তোলার মূলমন্ত্র তোমার কাছ থেকেই শিখেছি। তুমি আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছ।

তোমার ছোট ভাই-বোন তিথি–জারিফের সঙ্গে আমার ছোট বোন যাহিনের খুব সুন্দর সখ্য গড়ে ওঠে। আমরা একসঙ্গে স্কুলে যেতাম। স্কুলের দিনগুলো বেশ আনন্দে কাটছিল।

মনে পড়ে, একদিন বর্ষা উপলক্ষে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতার নোটিশ আসে। আমরা দুজনই ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলাম। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিযোগিতার দিনেও মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল। বৃষ্টির টাপুরটুপুর ছন্দের তালে তালে বর্ষার ছবি আঁকা অপূর্ব সুরমূর্ছনা তৈরি করছিল।

কীভাবে যে স্কুলজীবনের অধ্যায় শেষ হয়ে গেল, টেরই পেলাম না।
অনিবার্য কারণবশত, আমাদের বাসা বদল করতে হয়েছিল। নির্বাচনী পরীক্ষার সময় তোমার কাছ থেকে একটা বই ধার নিয়েছিলাম। এসএসসি পরীক্ষার আগে সেই বই তোমাদের বাসায় গিয়ে ফেরত দেওয়ার সময় শেষবারের মতো তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এরপর আমাদের আর যোগাযোগ হয়নি। তোমার কথা খুব মনে পড়ে। তুমি কোথায় আছ জানি না। তবে যেখানেই থাকো, ভালো থেকো।

ইতি,
তোমার বন্ধু প্রিয়ন্তু

৩৭, আকুয়া জুবিলী কোয়ার্টার, ময়মনসিংহ