প্রিয় সুহাসিনী,
কেমন আছ তুমি? অবশ্য ভালো থাকারই কথা। ভালো থাকবে বলেই তো মাঝপথে একটা অদ্ভুত বিরামচিহ্ন টেনে চলে গেলে। ভালো থেকো তুমি।
এই তো বেশ ভালো আছি আমি। তুমিবিহীন অগোছালো এ জীবন আমার কেটে যাচ্ছে অর্থহীন। সেদিনের পর আর ভাবিনি তোমায় নিয়ে লিখব আবার রঙিন কোনো চিঠি। তবু কেন জানি আজ হঠাৎ অনুভূতিগুলো নাড়া দিচ্ছে।
আমরা যে পথে নিয়ম করে হাঁটতাম, তুমি চলে যাওয়ার পর ওই পথ আমার জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, ওই পথ ছিল তোমার দেখানো। তুমি ছাড়া তোমার আঙিনায় আমি কী করে একা হাঁটি বলো! আকাশটাও থমকে গেছে। আকাশের শূন্যতা যেমন কেউ দেখে না, ঠিক তেমনি আমার মনের নীল জমাটবাঁধা কষ্টগুলো কেউ বোঝে না।
আচ্ছা সুহাসিনী, আমার দেওয়া নীল খামের সেই রঙিন চিঠি কি এখনো তোমার কাছে আছে? যদি থেকে থাকে, তাহলে চিঠিটা শেষবারের মতো আকাশের ঠিকানায় হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ো। আমি ঠিক খুঁজে নেব আমার সব কল্পনা।
দেখো, নির্লজ্জের মতো আমি বকবক করেই যাচ্ছি। কী করব বলো? তোমার দেওয়া গোলাপের শুকনো পাপড়িগুলো আজও চিৎকার করে বলে, সুহাসিনী—সুহাসিনী।