পড়ার টেবিল থেকে

যে মানুষটি নিজ উদ্যোগে, নিজের উপলব্ধি থেকে পড়াশোনা করে, তাকে কেউ থামাতে পারে না। সে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়ছবি: এআই/বন্ধুসভা

ছোটবেলায় ভাবতাম, সময় যত এগোবে মানুষ তত বেশি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হবে। আজকের বাস্তবতায় এসে দেখি, মানুষ পড়াশোনা থেকেই যেন দূরে সরে যাচ্ছে। আগে অন্তত যতটুকু পড়াশোনা করত, সেটুকুও ছিল চাকরিনির্ভর।

জানার জন্য, বোঝার জন্য, নিজেকে মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমৃদ্ধ করার জন্য যে পড়াশোনা দরকার—তা বোধ হয় বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, কিংবা হয়তো ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়েছে। অথচ যে মানুষটি নিজ উদ্যোগে, নিজের উপলব্ধি থেকে পড়াশোনা করে, তাকে কেউ থামাতে পারে না। সে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়।

‘টাকার বস্তা ঘুষ দিয়ে চাকরি করতে হয়’—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বাস্তবে অনেকেই আছেন, যাঁরা মেধাতালিকায় প্রথম হয়ে এক পয়সা ঘুষ ছাড়াই নিজেদের যোগ্যতায় চাকরি পান। আবার শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই যে ভালো করার একমাত্র পথ—এমন কথাও নেই। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অসংখ্য বই আছে, যেগুলো পড়ে মানুষ নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারে। হয়তো কারও একাডেমিক ফল খুব ভালো নয়, কিন্তু সে নিয়মিত ও গভীরভাবে পড়াশোনা করে—এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। আমাদের উপমহাদেশের বহু কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজন আছেন, যাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা খুব বেশি দূর পর্যন্ত ছিল না, তবু তাঁরা সমাজ ও চিন্তাজগতে অসাধারণ অবদান রেখেছেন।

জেনে-বুঝে পড়াশোনা করার, নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য একটি সুস্থ পড়াশোনার পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে মুহূর্তেই স্মার্টফোনে সবকিছু পাওয়া যায় বলে পড়াশোনার আর প্রয়োজন নেই—এই ধারণা কোনোভাবেই সঠিক হতে পারে না। তথ্য আর জ্ঞান এক নয়। আগের মতো সন্ধ্যাবেলা পড়ার টেবিলে বসার অভ্যাস, বইয়ের সঙ্গে নীরব সময় কাটানোর সংস্কৃতি—বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে নতুন করে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

খেয়াল করে দেখলে বোঝা যায়, গত কয়েক বছরে তরুণদের ভাষা কতটা নোংরা হয়ে গেছে। তারা সমাজের কাউকে মান্য করছে না; মুখে যা আসছে তা–ই গালি দিচ্ছে—অনলাইন কিংবা অফলাইন, কোনো ক্ষেত্রই বাদ যাচ্ছে না। যেসব শব্দ আগে কোথাও উচ্চারণ করার সাহস ছিল না, সেগুলো যত্রতত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি সামগ্রিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয়েরই একটি স্পষ্ট লক্ষণ।