আয়েশার সঙ্গে এ রকম আচমকা দেখা হবে, ভাবিনি। সেটাও আবার তার বিয়ের দিন!
বাবাকে নিয়ে ভারতে ছিলাম ছয় মাস। জায়গাসম্পত্তি যা ছিল, সব বিক্রি করে তাঁর চিকিৎসা করিয়েছি। জামানো টাকাগুলোও শেষ হওয়ার পথে। বাধ্য হয়ে পড়ালেখা ছেড়ে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ম্যানেজারের চাকরি নিই। কিন্তু চাকরিজীবনের প্রথম দিনই অনাকাঙ্ক্ষিত একটি মুহূর্তের সম্মুখীন হতে হলো।
একটা সময় আয়েশা আমার খুব কাছের মানুষ ছিল। যতটা কাছে থাকলে হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানির শব্দ শোনা যায়, ঠিক ততটা। তার চোখে আমি আলো দেখতাম, যে আলো অন্ধকারে আমাকে পথ দেখাত। ভাগ্য বড় অদ্ভুত! কবে কোথায় নিয়ে কার সঙ্গে দেখা করায় বলা কঠিন।
একদিকে আমি বাবাকে নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে আয়েশা ক্রমশ আমার থেকে দূরে চলে যায়। এতটা দূরে চলে যায় যে আমি আর ডাকলেও কোনো সাড়া পাইনি। প্রকৃতিগতভাবেই মানুষ শূন্যতা পছন্দ করে না। আপনাআপনি সেটা পূরণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। আয়েশার জীবনেও আজ অন্য একজন ছেলে সেই শূন্যতা পূরণ করে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পরই সে তার জীবনসঙ্গী হবে।
আয়েশা অপলক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে, রাজ্যের ক্লান্তি। আগের মতো আমি আর ওই চোখে আলো দেখতে পাচ্ছি না। গলা ভারী হয়ে এসেছে। হঠাৎ একফোঁটা চোখের পানি নিচে গড়িয়ে পড়ল। কেন পড়ল? জানি না। আয়েশা আমাকে কিছু বলতে চায়, আমি সুযোগ দিচ্ছি না। মনে হয়, ক্ষমা চাইতে চাচ্ছে। আমি অহেতুক ব্যস্ততা দেখাচ্ছি। ক্ষমা তো অনেক আগেই করে দিয়েছি।
আমার ভেতর কালবৈশাখী ঝড় চলছে। সব ওলট–পালট হয়ে যাচ্ছে। কনেসাজে আয়েশাকে আজ অসম্ভব সুন্দর লাগছে। কিন্তু এ সাজে সে অন্য কারও ঘরে যাবে, তা তো চাইনি আমি। কাজ ফেলে সোজা বাসায় চলে এসেছি। বাইরে বাতাস হচ্ছে। বৃষ্টি আসবে মনে হয়। ঘরের জানালা বন্ধ করে দিয়েছি।
টিলাগড়, সিলেট