বাবার পাঞ্জাবিতে পকেট নেই

ছবি: মাসুক হেলাল

ভেন্টিলেটরের ফোকর দিয়ে উঁকি দিচ্ছে
হেমন্তের রোদ,
এমন রোদের স্পর্শ নিয়েই স্মৃতিরা ভাত মাখে
পেঁয়াজের ফুল, রসুনের পাতা, কড়া শর্ষে তেলের ঝাঁজে!
উঠানে তরতরে পেঁপেগাছে শিশির হাসে
মেহগনির ডালে বসে ঘুঘু ডাকে।
শীতের আভাস-আবাস গড়ে পাড়ায় পাড়ায়।
এখানের চোখও ভেন্টিলেটরেই...
হেমন্তে পাতাদের ঝড়ে যাওয়ার দিন;
অথচ শৈশবে ঝরাপাতার শব্দ শুনে
সুখেরা শিকল খুলে দিত প্রাণশক্তির,
বিছানভর্তি জীবন ঢ্যাপের খইয়ের মতো নাচত
হাসত।

এখনের হেমন্তে পাতাদের ঝরে যাবার
দুঃখ আছে—বুঝিয়ে দেয়!
বুঝিয়ে দেয় অভাবের ঘ্রাণ
তীব্র থেকে তীব্র হলে বেঁচে থাকার
আকার হয় চারকোণ; সাড়ে তিন হাত,
যেখানের দেয়াল, চৌকাঠ,
জানালা ঘ্রাণেরই দখলে।
হেমন্ত ঠিকই আসে, বারবার আসে
আসে না ফিরে শৈশবের মতো করে
পাতিলভর্তি রান্না করা সুস্বাদু
গোস্তের ঝোল, রুই মাছের তরকারি
ইলিশের সালুন ভরা বাটি আর সেই স্বাদ ও দিন।

চোখ এখনো ভেন্টিলেটরেই
হেমন্ত উদ্‌যাপন করে কংক্রিটের মতো।
বাবার পাঞ্জাবিতে এখন আর
কোনো পকেট নেই
ভাইয়ের ওয়ালেট, লুঙ্গির ডোর ফাঁকা!
মায়ের আঁচলে গিট্টু দেওয়া থাকে না—
আমাদেরও আর কোনো পেট নেই।
সবকিছু গিলে খেয়েছে এখনের
হেমন্ত বেচা হাটবাজার।
হেমন্ত এলেও নিম্নমধ্যবিত্তের
বাজারবিহীন ব্যাগে আসে কেবল দুঃখ!