বন্ধুসভা কেন করি
প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরে পদার্পণ করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। দীর্ঘ এই পথচলায় বন্ধুসভা গড়ে তুলেছে অসংখ্য মানবিক, দায়িত্বশীল ও স্বপ্নবান তরুণ। যাঁরা ভালো কাজের মাধ্যমে বদলে দিচ্ছেন সমাজ, ছড়িয়ে দিচ্ছেন আলো ও আশার বার্তা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ আয়োজনে সেই বন্ধুরা জানালেন, কেন তাঁরা যুক্ত আছেন বন্ধুসভার সঙ্গে।
বন্ধুসভা করি মানুষ ও মানবতার জন্য। যেখানে শিখি দান নয়, সহমর্মিতা। সহানুভূতি নয়, সহযাত্রা। শিখি ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর দায়িত্ববোধের পাঠ। নিজেকে গড়ি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য, অন্যের সুখে হাসতে শিখি।
উলফাতুল মোস্তফা, কক্সবাজার
মানবিক ও সামাজিক কাজের অন্তর্নিহিত ইচ্ছাগুলোকে যত্ন করে দলীয়ভাবে সংগঠিত করতে পারছি বন্ধুসভার মাধ্যমে। পাঠচক্রে চিন্তার বিকাশ, সহমর্মিতায় ঈদের উল্লাস, বৃক্ষরোপণে জীবনের জাগরণ। নিজেকে স্বচ্ছ ও অনুপ্রাণিত রাখতে এবং স্বপ্ন বাঁচাতে করি বন্ধুসভা।
প্রিয়াংকা, ভৈরব
ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের জীবনের আলোর বার্তা বাহক হওয়ার সুযোগ পাই বন্ধুসভার মাধ্যমে। এখানে ভেদাভেদহীনভাবে বন্ধুরা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আত্মো–উন্নয়নমূলক কাজেও উদ্বুদ্ধ করেন, যা আমাদের সাহায্য করে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে।
আফরিনা ইসলাম, হাবিপ্রবি
বন্ধুসভায় মানবতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা পাই। এই মঞ্চে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারি। ভালো বন্ধু পাওয়া যায়, সমাজের জন্য কিছু করার সুযোগ মেলে। নিজেকে আরও দায়িত্বশীল, সচেতন ও ইতিবাচক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
বীথি শর্মা বনিক, ঝালকাঠি
বন্ধুসভা একটি অরাজনৈতিক, শুদ্ধ সংস্কৃতি ও সৎকর্ম সাধনের সংগঠন। এখানে নেতৃত্বগুণ গড়ে ওঠে, মানবিক গুণাবলি ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার স্পৃহা জোগায়।
হোসাইন ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন থেকেই বন্ধুসভার সঙ্গে পথচলা। শীতার্তের গায়ে উষ্ণতা, ক্ষুধার্তের মুখে হাসি, অসহায়ের চোখে কৃতজ্ঞতা—এসবই প্রাপ্তি। বন্ধুসভা শিখিয়েছে, নিজেকে সমাজের সেবায় বিলিয়ে দেওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ এবং সত্যিকারের মানবতা।
সিফাত আব্দুল্লাহ্, জামালপুর
বন্ধুসভার মাধ্যমে বিতর্ক ও মতবিনিময়ের সুযোগ, নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি এবং ইভেন্ট পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বই পড়ায় উৎসাহিত করে। একে অপরের পাশে থাকা, স্বপ্ন দেখা ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
মিজানুর রহমান, বরিশাল
বন্ধুসভা ইতিবাচক পরিবর্তনের এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। এখানে আমরা নেতৃত্ব দিতে শিখি, নিজেদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলি। সমাজের কল্যাণে কাজ করা, সৃজনশীলতা ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে একটি উন্নত পৃথিবী তৈরির স্বপ্ন দেখি বলেই বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত।
মোকাররাম বিল্লাহ, সাতক্ষীরা
বন্ধুসভায় নিজের নেতৃত্ব গুণাবলি শাণিত করি, সাংস্কৃতিক মননকে প্রসারিত করি ও সৃজনশীলতা চর্চার সুযোগ পাই। সুবিধাবঞ্চিতদের হাসি ফোটানো থেকে শুরু করে দুর্যোগে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো—বন্ধুসভা তারুণ্যের শক্তিকে সামাজিক কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রেরণা দেয়।
আইরিন সুলতানা, পটিয়া
এটি এমন একটি সংগঠন, যেখানে ছোট-বড় সবাই মিলেমিশে কাজ করতে পারেন, সবাই সবার বন্ধু। এই ভালো লাগা ও ভালো কাজ করার প্রচণ্ড নেশা থেকেই ২২ বছর ধরে বন্ধুসভা করছি।
সোহেলী চৌধুরী, রংপুর
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই বন্ধুসভার সঙ্গে আছি। দেশের ভেতরে এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন সুসংগঠিত ও টেকসই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর নেই। প্রতিকূল সময়েও বন্ধুসভা কাজ থামায় না; নিষ্ঠার সঙ্গে সব করে।
আসিফ খান, দক্ষিণ কোরিয়া
মূল্যবোধ, নেতৃত্ব ও মানবিকতার সম্মিলিত পাঠশালা হলো বন্ধুসভা। সমাজ ও দেশের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা, বন্ধুসভা সেই দায় মেটানোর পথ দেখায়। এখানে মেধা ও ইতিবাচকতার চর্চা হয়, যেখানে আমরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করি।
নিলয় বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
বন্ধুসভা হলো ভালো মানুষদের ঐক্যের জায়গা। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ‘ভালো মানুষগুলোকে এক হতে হবে দেশের স্বার্থে।’ সাহিত্যিক আনিসুল হকের মতো আমিও বিশ্বাস করি, পাঠাভ্যাস মানুষকে গড়ে তোলে ভালো মানুষ হিসেবে। বন্ধুসভা সেই ভালো কাজগুলো ঐক্যের মাধ্যমে চর্চা করে। তাই বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত থাকা মানে নিজেকে গড়ে তোলা এবং সমাজকে বদলের পথে একসঙ্গে হাঁটা।
আবুল বাশার, ময়মনসিংহ
বই পড়ার নেশা থেকেই বন্ধুসভায় যুক্ত হওয়া। পাঠচক্র, বই বিনিময় উৎসব, ভাষা প্রতিযোগ, বইমেলা প্রভৃতির মাধ্যমে নিজে যেমন জ্ঞানের স্বাদ পাই, তেমনি সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করি। বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে পারছি, যা ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের মান উন্নয়নে সহায়তা করছে। বন্ধুসভার মাধ্যমে নিজের জড়তা কাটানো ও নেতৃত্বদানের পথ সুগম হয়েছে।
আসাদুজ্জামান, সৈয়দপুর
নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াব বলে বন্ধুসভা করি। পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ না থাকলে সবকিছু রোবোটিক মনে হবে, যেন আমাকে দেখে অন্যরাও এগিয়ে আসেন, সে জন্য বন্ধুসভা করি। কিছু পাওয়ার জন্য নয়, কিছু দেওয়ার জন্য বন্ধুসভা করি।
ফারাহ্ নাজ নাহার, লালমনিরহাট
বন্ধুসভায় বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে, আত্মো–উন্নয়নের সুযোগ হয়। নিজেকে আরও ভালোভাবে জানতে পারি, বুঝতে শিখি। ভেতরের মনুষ্যত্ব ও সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়।
বুরহান উদ্দিন, কাতার
যখন বন্ধুসভায় যুক্ত হই, কেউ আমাকে চিনত না। ঠিকমতো কথা বলতে পারতাম না। বন্ধুসভা আমাকে দিয়েছে পরিচয়, দিয়েছে সত্য পথে চলার অনুপ্রেরণা। বই পড়ার প্রতি গড়ে উঠেছে আগ্রহ।
নয়ন আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ
বন্ধুসভা ভালো কাজে উৎসাহিত করে ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ হতে শেখায়। এখানে আমরা বন্ধুত্ব, মানবতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মূল্যবোধ অর্জন করি। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের বিকশিত করতে পারি।
আরিফ হোসেন, গাজীপুর
বন্ধুসভা শেখায় কীভাবে পাঠের আনন্দকে কাজে, বন্ধুত্বকে মানবসেবায় আর চিন্তাকে পরিবর্তনে রূপ দেওয়া যায়। তরুণদের একত্র করে সমাজের জন্য ভাবতে, কাজ করতে ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে। একে অপরের পাশে থাকা, ভালোবাসা ছড়ানো ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বন্ধুসভা করি।
সৌরভ সরকার, সুনামগঞ্জ
বন্ধুসভার কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি হয়েছে, বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও তাঁদের বোঝানোর দক্ষতা বেড়েছে। স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আত্মকেন্দ্রিকতা দূর এবং নিঃস্বার্থভাবে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
বিপাশা আহমেদ, ঝিনাইদহ
বন্ধুসভা হলো মনুষ্যত্বের পাঠশালা। এখান থেকে শিখি মানুষকে ভালোবাসতে, সমাজের পাশে দাঁড়াতে, সময়কে মূল্য দিতে। বন্ধুসভা আমাদের তৈরি করে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক প্রজন্ম হিসেবে। বন্ধুদের সঙ্গে পথচলা শেখায় নেতৃত্ব ও সহমর্মিতা।
শাহ সিকান্দার শাকির, সিলেট
বন্ধুসভা করি মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার জন্য। এখানে শিখি দলবদ্ধভাবে ভাবতে, ভালো কিছু করতে ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে। বন্ধুসভা আমাদের শেখায় দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
আবু সালেহ, সিরাজগঞ্জ
বন্ধুসভা আমার কাছে এক আলোকবর্তিকা। যখনই সমাজের কোনো অন্ধকার বা সংকটে নিজেকে একা মনে হয়েছে, বন্ধুসভার হাত ধরেছি। এখানে শুধু কাজ নয়, একটি পরিবার খুঁজে পেয়েছি, যেখানে শত তরুণ একসঙ্গে স্বপ্ন দেখে, শেখায় ও একে অপরের ভরসার স্থান হয়।
আনিকা তাসনিম, পাবনা
বন্ধুসভায় বয়স, বিত্ত বা কোনো ধরনের বৈষম্যের ঠাঁই নেই। মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে হাতে হাত রেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম। অনেক জ্ঞানী, গুণী ও মহান ব্যক্তিদের আনাগোনা হয় এখানে।
বহ্নিশিখা দাস, কেরানীগঞ্জ