প্রিয় গঙ্গাফড়িং,
নাম শুনে আঁতকে উঠলে বুঝি? ওঠারই কথা। দীর্ঘ ৪ বছর ৮ মাস ১৩ দিন পর যদি চেনা নামটা অচেনা হয়ে যাওয়া মানুষটার চিঠির প্রারম্ভে চোখ পড়ে, চমকিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
‘কেমন আছ?’ এই দুর্বোধ্য প্রশ্ন করে তোমায় দ্বিধাগ্রস্থ করার অভিপ্রায় আমার নেই। আশা করি, ভালো না থাকলেও ভালো থাকার পোশাক গায়ে জড়িয়ে অন্যের সংসারের হাল ধরে আছ। তোমার নামের শেষে আমার পদবি বসাতে না পারার ব্যর্থতা হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপা দিয়ে আমিও ভালো থাকার অভিনয়টা আত্মস্থ করেছি। হয়তো ভাবছ, এত দিন পর কেন এই বেদনাস্নাত পত্র!
হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়াতে বারবার হাতের কলমটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই এই বিলম্ব। জানো, আমি এখন ইচ্ছাকৃতভাবে শার্টের বোতাম ছিঁড়ি না, তুমি সেলাই করবে ভেবে! এখন আমি বড্ড অগোছালো। মাথায় চুলের গাদা, মুখে গোঁফ-দাড়ির বিক্ষোভ মিছিল, বড় হতে হতে ভেঙে যায় হাত-পায়ের নখ। জানো, আমার প্রিয় সিনেমা এখন দেবদাস, ফোনের রিংটোনে হৃদয়ভাঙার সুর।
আমার প্রিয় রং-ও বদলায়নি জানো? যে নীলে তোমায় আবৃত দেখে আমার চক্ষু বিস্ফারিত হতো, এখন সেই একই রং বেদনাকে প্রতিনিধিত্ব করে। তুমি জানো, সিগারেটের ধোঁয়ায় আমার বড্ড কষ্ট হতো। এখন আমার কক্ষে সেই একটি ধোঁয়াই সজ্জিত। তখন আমাদের প্রতিটি ঘণ্টা মিনিটে শেষ হতো, কিন্তু এখন প্রতিটি মিনিট যেন বছরে ফুরায়।
আজ এ পর্যন্তই থাকুক। জানি প্রতীক্ষায় থাকবে না। কিন্তু যখন আমার হৃদয়ভাঙার এই লিখিত রূপ তোমার কাছে পৌঁছাবে, তখন হয়তো আমি তোমার উদ্দেশে আরও একটি হৃদয়নিংড়ানো রঙে ছবি আঁকতে থাকব।
ইতি
তোমার সাবেক ভালোবাসা