একটি জীবন্ত চিরকুট

প্রতীকী ছবি

একটা নির্লজ্জ প্রেমের অসুখ
বহুকাল ধরেই বুকের জমিন দখল করেছে
এক দুরারোগ্য হয়ে!
পুরোনো দীর্ঘশ্বাসে নীলচে বাষ্প ছড়িয়ে
উড়তে থাকে নিশ্বাসের ধোঁয়ায় বিন্দু বিন্দু করে।
অপসারণের জ্বলন্ত উনুনে সচেষ্ট হয়ে, আবিষ্কার করে যাই ঘৃণাভরে অবিশ্বাস্য ওষুধে।
চিতার অনলে যে ব্যথা জ্বেলেছ তুমি সারা বদনে!
তাকে ধুয়ে দিতে চাই উত্তাল সাগরের জোয়ারে।
কী লাভ মিছে মায়ায় যন্ত্রণা বাড়িয়ে অবশিষ্ট
ছাইটুকু জমিয়ে?
ধ্বংসাবশেষ রেখে দিয়ে কষ্টগুলো আরও খুঁচিয়ে?
ফিরে আসুক যত কল্পনা বিলাস আমার বৃষ্টিভেজা উঠোনে,
কতকাল আর যন্ত্রণা বয়ে যাব সীমান্ত ছাড়িয়ে?
যেই প্রেম অবিশ্বাসের কলঙ্কের কালি মেখেছে
আমার প্রতীক্ষিত কাননে,
ফুলের সব পাপড়িগুলো ঝরে গেল ছলনার কাঁটাতে!
হৃদয়ের বারান্দায় মখমলে প্রেম বিছিয়ে বলো
আর কি হবে?
ভুলের মাশুল দিতেই হয় ভুল করে প্রেমের শরীরে।
ঘৃণার আঁচলে ঢেকে দিই ভালোবাসার জঠরে!
স্মিত হাসির রেখা ফুটিয়ে অন্দরমহলে প্রাচীর
দিলাম আজ তুলিয়ে।
যে যা প্রাপ্য সে কৃতিত্বটা তাকেই দিতে হয় নিঃস্বার্থে।
সময়ের উল্টো পথেও সময় রয় না থেমে।
নিজের অস্তিত্ব একদা রেখেছিল যে ভালোবেসে তোমাতে,
তাকে আঘাত করেছ বোঝোনি তার ব্যথাগুলো
পরখ করে!
এই জীবন ক্ষণস্থায়ী তবু যাই বলে,
একটা জীবন্ত চিরকুট লিখে গেলাম রক্তাক্ত
হৃদয়ে নীল খামে ভরে!
পড়ে নিয়ো জীবনের পাট চুকিয়ে আমার সমাধির পরে।