নীলু
বুঝলে নীলু,
ভালোবাসা প্রমাণের মতো-
দুরূহ ব্যাপার পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি হয় না।
ভালোবাসা তো চিরকালই অসংজ্ঞায়িত
ভালোবাসা আপেক্ষিক
তবে কোন নিরীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে প্রেমিক তার ভালোবাসার সাক্ষ্য দেবে, বলতে পারো!
আমিও কখনো চাইনি সমীকরণের সম্পর্ক গড়তে
শুধু চেয়েছিলাম নিজেকে ভেঙেচুরে জমা রাখার জন্য একটা মানুষ,
চেয়েছিলাম
সারা দিনের ক্লান্তি মুছে দেওয়ার জন্য একটা হাত।
বলতে পারো, একটা দেবী কিংবা ঈশ্বরীর অপেক্ষায় ছিলাম,
যে কিনা মলিন হয়ে যাওয়া আমার ভেতর খুঁজে পাবে অপার সম্ভাবনা।
ভালোবাসার অকাট্য চাহিদা কখনোই ছিল না,
বড্ড ইচ্ছে হতো—গোধূলির পড়ন্ত রোদের আভায়,
ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে দু-এক পা হাঁটতে।
কিংবা ধরো,
পূর্ণিমার রাতে তোমার চুলে রবীন্দ্রনাথের গানের সুবাস মাখিয়ে দিতে দিতে সারাটা রাত নির্দ্বিধায় তোমার কাঁধে মাথা রেখে
গল্প করার সাধ ছিল।
এসব কিছুই হলো না, কেন বলো তো?
চাওয়া–পাওয়ার অনেকটা পথ হেঁটে এসে দেখি
যে আলপথ পেরিয়ে এসেছি মুসাফিরের বেশে
সে পথটা আমার নয়।
এই ক্ষুদ্র জীবনে অনুভূতিগুলো কখনো আত্মসম্মানের ঊর্ধ্বে ছিলই না।
তাই হয়তো
তোমাকে নিয়ে বোনা হাজারো স্বপ্নের বীজগুলো, হৃদয়ের প্রমত্ত গঙ্গার ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিল।
তবু আশায় বাঁধি বুক
আসবে নতুন ভোর, উঠবে নতুন সূর্য,
হয়তো তোমার নামে আবার ফুটবে নতুন কুঁড়ি।
জীবন তো অসম্ভবের সম্ভাবনায় পূর্ণ
তাই না নীলু?