বেদনার মালা গাঁথি

অলংকরণ: আরাফাত করিম

বেদনার মালা গাঁথি
এই ফুল ফুটে আছে একদিন রক্তাক্ত সবুজ এই বাংলার
বনে–বাদাড়ে, গ্রামে–গঞ্জে, নগরে–প্রান্তরে
ভাত বেড়ে বসে আছে মা, সন্তান আর আসেনি
ভাই যুদ্ধে গিয়েছিল, ধর্ষিতা বোন আত্মহত্যা করেছিল
ওদের কারও সাথে কখনো আর দেখা হয়নি
প্রেমিকের আশায় নকশা করে বানিয়ে রাখা প্রেমিকার রুমাল,
উপহার দেওয়া হয়নি
স্বামীর আশায় সন্তান নিয়ে অপেক্ষা করে থাকা বউ বিধবা হয়েছে
এমন অসংখ্য বাংলার বধূর বৈধব্যবেশের বিনিময়ে দেশমাতৃকার শরীরে উঠেছে রঙিন বেশ
বহু প্রতীক্ষিত, কষ্টার্জিত, রক্তে রঞ্জিত স্বাধীনতা এসেছে
ওরা কেউ আর ফিরে আসেনি
বাঁশি বাজানো ছেলেটা অস্ত্র হাতে নিয়ে এই সোনার বাংলাকে ভালোবেসেছিল
ছবি আঁকিয়ে মেয়েটা স্বর্গের মতো সুন্দর বাংলার স্বপ্ন নিয়ে চোখে বোমা বেঁধেছিল
খানসেনাদের ডেরায় প্রাণ হাতে নিয়ে গুপ্তচরের কাজ করে যে কিশোর
সে–ও একজন মুক্তিযোদ্ধা
কৌশলে সব শত্রুকে কুপোকাৎ করতে পারবে, সেদিনই তার মুক্তি
বাপ্–ঠাকুদ্দার ভিটেমাটি ছেড়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনিশ্চিত যাত্রায়
তাঁদের কতজন কীভাবে মৃতপ্রায়, মরে যাওয়ার মতো বেঁচে আছে
কতজন মরে গেছে, কারও আর জানা নাই
অশ্রু দিয়ে বেদনার মালা গাঁথি তোমাদের সকলের জন্য
মাটির বুকে আজ মাথা রাখি তোমাদের চরণস্পর্শ পাওয়ার জন্য
স্বাধীনতা, প্রতিদিন সূর্য ওঠার মতো তুমি এসো এই সবুজ বাংলায়
স্বাধীনতা, প্রতিদিন ফুল ফোটার মতো তুমি ফুটে ওঠো এই সবুজ বাংলায়
পাখির কণ্ঠ থেকে আর কখনো যেন রক্ত না ঝরে, আমাদের এই স্বাধীন বাংলায়
বেদনার মালা গাঁথি
শোষিত, বঞ্চিত একাত্তরের প্রতিটি নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের নামের অক্ষরে
অশ্রুসজল বর্ণমালা দিয়ে আমার এই বাংলা ভাষায়