স্মৃতির শহর ও তুমি
এই শহরের প্রতিটি চেনা মোড়,
প্রতিটি নিয়ন আলো আজ বড্ড অচেনা লাগে।
যে ফুটপাথ ধরে একসময় আমরা আঙুল ছুঁয়ে হেঁটেছিলাম।
সেখানে আজ শুধুই শুকনা পাতার মরমর শব্দ আর একলা মানুষের দীর্ঘশ্বাস।
শহরের ট্রাফিক জ্যাম, কোলাহল কিংবা
বৃষ্টির ঝাপটা—সবকিছুতেই কেমন যেন একটা
চেনা মানুষের অনুপস্থিতি তীব্র হয়ে বাজে।
রোজ সেই স্মৃতির শহরের অলিগলিতে হেঁটে বেড়াই,
মানুষ ভাবে একলা হাঁটি,
অথচ তারা জানে না,
আমার পাশে পাশে এখনো হেঁটে চলে এক রুপালি মরীচিকা।
ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় যখন
নিজের ছায়াটা দেখি,
ঠিক তার পাশেই যেন তোমার ওই চেনা অবয়বটা আলতো করে উঁকি দিয়ে যায়।
তুমি তো চলে গেছ,
নিজের মতো করে গুছিয়ে নিয়েছ অন্য কোনো আকাশ,
অথচ এই শহরে আমার জন্য ফেলে রেখে গেছ এক
অনন্ত চাতকের তৃষ্ণা।
কফির কাপে এখন আর দুটো ঠোঁট একজাগায় স্থির হয় না, গল্প জমে না,
ধোঁয়াটে মেঘের মতো একাকিত্ব এসে গ্রাস করে নেয় পুরোটা টেবিল।
পথের প্রান্তে কিছু মানুষ জিজ্ঞেস করে, ‘কেমন আছ?’
ঠোঁটের কোণে একটুখানি মিথ্যা দীপ্তি ফুটিয়ে বলি, ‘ভালো।’
কী অদ্ভুত, তাই না?
কীভাবে একটা আস্ত জীবন হাসিমুখে বেঁচে থাকার অভিনয় করতে হয়—
এই শহর এবং তুমি আমায় খুব ভালো করেই শিখিয়েছ।
আজকাল আর কোনো অভিযোগ নেই,
অজুহাতের দেয়াল ভেঙে মন আজ বড্ড একা।
অনুনয় আর অনুকম্পার পাঠ চুকে গেছে বহুদিন আগে,
থিতিয়ে গেছে বুকের ভেতরের সেই তীব্র আকুতিরাও।
যেখানে কোনো চাওয়া নেই,
সেখানেই বুঝি আসল মুক্তির আনন্দ লুকিয়ে থাকে,
তাই শুধু জানালার পাশে বসে থাকা কিছু মধ্যরাত জানে,
কীভাবে এক ফোঁটা চেনা সুবাসের খোঁজে
এই শহরের বুকে আজও তিলে তিলে ফুরিয়ে যাই।
তুমি হয়তো এখন অন্য কারও শহরের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাটি।
আর আমি আজও তোমার ফেলে যাওয়া এই অন্ধকার শহরটাকেই
আমার বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয় করে রেখেছি।
নদীর জল যেমন আর ফেরার আকুতি করে না,
আমারও মন আজ তেমনি শান্ত, উদাসীন।