যশোর ও নদীয়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র ‘ইছামতী’

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ উপন্যাস

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ উপন্যাস নিয়ে আগ্রহের মূল কারণ নদীটি আমাদের সাতক্ষীরা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। সীমান্তঘেঁষা এ নদী স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়েছিল ২০২০ সালে। কিছুদিন আগে এ বই সম্পর্কে একজনের আলোচনা পড়ার পরে মনে হলো, বিলম্ব না করে দ্রুত বইটি পড়া উচিত।

নীল বিদ্রোহের সময়ের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস। মূলত সে সময়ের যশোর ও নদীয়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। বাংলা ১২৭০ সনের বন্যার পর থেকে এ কাহিনির শুরু। মোল্লাহাটির নীলকর শিপটন সাহেব, ছোট সাহেব ডেভিড, দেওয়ান রাজারাম রায় প্রমুখের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কৃষকসমাজ। তবে এর বিপরীতে আছে ভবানী বাড়ুজ্যে, তিলোত্তমা, গয়া, লালমোহন পাল, রামকানাই কবিরাজের মতো কিছু চরিত্র, যারা সাধারণ মানুষদের কথা চিন্তা করে। ভালো–খারাপ এ চরিত্রগুলো উপন্যাসকে বৈচিত্র্য দান করেছে।

এর পাশাপাশি বিভূতিভূষণ তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করেছেন। জলজ বন্যবুড়োর ঝোপ, টোপাপানার দাম, বুনো তিৎপল্লা লতার হলদে ফুলের শোভা, দূর্বাঘাসের চর, বনকুসুমে ভর্তি চখা বালির ঘাট, থোকা থোকা সাদা আকন্দফুল, সোঁদালি ফুলের ঝাড়, সাঁইবাবলা আর শেঁয়াকুল কাটাবন, ঘেঁটু ফুলের দল আর বনশিমফুলের সুন্দর বেগুনি রঙের বর্ণনা মনে অদ্ভুত এক আবেশ তৈরি করে।

বইটি পড়ে একটু হতাশ হয়েছি। কারণ, সমগ্র উপন্যাসে সাতক্ষীরার কথা আছে মাত্র এক জায়গায়। তবে বইয়ের চরিত্রগুলো যে ভাষায় কথা বলে, তার সঙ্গে আমাদের জেলার আঞ্চলিক ভাষার অনেক মিল আছে। সংলাপগুলো পড়ার সময় বেশ ভালো লাগছিল।

ঐতিহাসিক দুটি চরিত্র: তিতুমীর ও কোলসওয়ার্থি গ্র্যান্টকে প্রচ্ছন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এ উপন্যাসে।
উল্লেখ্য, এ উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫০-৫১ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার অর্জন করেন।

একনজরে
নাম: ইছামতী
রচয়িতা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশক: অবসর
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
পৃষ্ঠা: ১৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ৮০ টাকা