আত্মমগ্নতার আত্মকথন
সময় গড়িয়ে গেলে অনেক কিছুই ধরা পড়ে—
কিছু বোধ জন্ম নেয়,
কিছু সহন নিজেই হয়ে ওঠে নীরব অভ্যাস।
তখন বুঝি,
আমার ‘আমি’ শেষ পর্যন্ত কারও নয়—
একান্তই আমার আত্মসত্তা।
মানুষ বড় ব্যস্ত—
হিসেবি জীবনের কঠিন খাঁচায় বন্দী।
জীবন নামের নাট্যমঞ্চে
সবাই অভিনয়রত,
নিরবচ্ছিন্ন অভিনয়,
মুখোশের পর মুখোশ।
টেলিভিশনের ধারাবাহিকও একদিন থামে,
কিন্তু মানুষের অভিনয় যেন থামে না
সে চলে আত্মবিস্মৃতির অসীম পর্বে।
হয়তো আমার এই ‘আমি’ও
কখনো কখনো হয়ে ওঠে
আত্মবৈচিত্র্যের বিস্ময়বিন্দু।
ধারালো নিয়তির ধনুকে
তাকে বারবার বিদ্ধ হতে হয়,
ক্ষত জমে আত্মমনে,
রক্তপাত হয় নীরবতায়।
তবু কী আসে যায়?
এই পৃথিবী তো নিজেই
গোলকধাঁধার অদৃশ্য অয়োময়।
দিন শেষে ক্লান্ত আলোর নিচে দাঁড়িয়ে
এই আমিটার পাশে থাকে কেবলই আমি।
তাই এই আমিটাকেই ভালোবাসতে হবে,
এই আমিটাকেই গড়ে তুলতে হবে আত্মযোগ্যতায়।
ঝড়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকার
দৃঢ়তা অর্জন করতে হবে
এই আমিটাকেই।
আমি চাই—
আমার আমি হয়ে উঠুক সমৃদ্ধির শিখরপ্রান্ত,
নিজের সঙ্গে নিজেই গড়ে তুলুক
আত্মবন্ধনের মৈত্রী।
এই আমি কখনো হোক
গ্রীষ্মের কালবৈশাখী—অপ্রতিরোধ্য,
কখনো বর্ষার অঝোর বৃষ্টি—প্রাণসঞ্চারী,
কখনো শরতের শুভ্র কাশবীথি,
আবার হেমন্তের সোনালি ফসলের ঘ্রাণ।
এই আমি কখনো হোক কুয়াশার অন্তর্লীনতা,
কখনো শীতের আশ্বাসী উষ্ণতা।
কখনো প্রত্যাশার বৃষ্টিধারা হয়ে
এই আমিটাকেই ভাসিয়ে নিয়ে যাক
সুখের নিরবচ্ছিন্ন প্লাবনে।