প্রিয় সুহাসিনী,
ক-৪২/২ লেনের সেই বাড়িতে আজও আছি। বহুদিন ধরে তোমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। জানি না কেমন আছ। আমিও সময় পাইনি কোনো দিকে যেতে। তবে এবার সময় পেলে তোমাদের বাড়িতে যাব-ই! বাড়ির অন্যদের খবর কী? এদিকে আসা হবে? এলে যোগাযোগ করো; পুরোনো ঠিকানাতেই আছি।
আমি না হয় নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততা, লেখালেখির চাপ আর কিছুটা অভিমান নিয়ে তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করা ছেড়ে দিয়েছি। তুমিও কি ভুলে গেছ তোমার প্রিয় ডিজিটগুলো। কই একবার তো ডায়াল করে জানতে চাওনি আমি কেমন আছি? কৌতূহল হয়নি, বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি। শেষ কবে তোমাকে দেখেছিলাম এখনো স্পষ্ট মনে আছে। এই তো সেদিন; অথচ একে একে কেটে গেছে সাতটি বছর। সেই দেখাটাই ছিল শেষ দেখা—তোমার বিয়ের আগে। তোমাকে ভুলে যাওয়ার জন্য আমাকে মিনতি করেছিলে। তোমার মিনতি আমি উপেক্ষা করতে পারিনি। অনেক কথাবার্তা আর ভাবনাচিন্তার পর বিদায় মুহূর্তে লক্ষ করলাম তোমার দুই চোখের কোণ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল ঝরছে। আমিও তোমার উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবনের প্রত্যাশায় মনের সুখ ও আহ্লাদকে জলাঞ্জলি দিয়ে তোমাকে বিদায় দিই এবং নতুন জীবনের জন্য অভিবাদন জানাই।
আজও তুমি আমার খবর রাখো কি না জানি না। কিন্তু আমি পরিচিতদের কাছ থেকে ঠিকই তোমার খবরাখবর নিই। সুখী হয়েছ জেনে তৃপ্তি আসে, ক্লান্তিরাও বিদায় নেয়; দু-দণ্ড সান্ত্বনা পাই। এ নিয়ে আমি চিরকাল তৃপ্তি ও আনন্দদায়ক হাসি হেসে যাব। কোনো দিন মুখোমুখি বসে আর বলব না, ‘এসো সখী স্বপ্নের সোনালি দ্বীপে। আমরা ঘর বাঁধি, সংসার পাতি। আমাদের পবিত্র মিলনে আসুক সন্তানসন্ততি; তুমি মা হও আর আমি হই বাবা।’
একদিন সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন বপন করেছিলাম আমরা। আজ সেই ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন ফ্যাকাশে। কেন জানি স্মৃতিগুলো তাড়িত করে বেড়ায়। একদিন কী আশ্চর্য অনুভূতি ছিল তোমার প্রতি আমার। চোখের দিকে তাকিয়েই বলে দিতে পারতাম তোমার না বলা–কথাগুলো। আজ আর সেসব অনুভূতি নেই। আঙুলের এক ফাঁকে সিগারেট থাকে; জলন্ত সে সিগারেট টানের চেয়ে বেশি হাতে পুড়ে যায়। তোমাকে ভাবলেই বেশ কিছু কবিতার পঙ্ক্তি উঁকিঝুঁকি দেয়—
‘যদি ফিরে আসো!
তবে সব অভিমান ভুলে এসো।
আমিও ভুলে যাব।
আবার ভালোবাসার
খুনসুটিতে মাতিয়ে
রাখব দিনমান!
কোথায় বন্দর যেথা থামবে জাহাজ;
কোনখানেই বা সেই অনিন্দ্য সুন্দরী রমণী?
আমি তো চাই-ই সে আমার হৃদয়-
সমুদ্রের পারে নোঙর ফেলুক।
যে নাকি উত্তর সাগর থেকে নোনাজলে দক্ষিণে বিলিন।
কোথায় শেষ হবে সেই যাত্রা এই কথা নেই জানা
কে বা করল কে বা করল আসতে তোমারে মানা?
ক্রমাগত চুম্বন ছিল তোমারই মহিমায়
হে রমণী বধির ত্রিকাল।’
যদিও আমি কবি নই। তবু কেন জানি কবি হয়ে যাই; গাঢ়ল বাউল হয়ে যাই। মাঝেমধ্যে ভাবি ইঞ্জিনিয়ার হব, আবার মনে হয় কবি হয়েই কাটাব বাকিটা জীবন। এই কবির খ্যাতি পেতে চাইনি কোনো দিন, লেখকের খ্যাতি চাইনি কোনো দিন। তোমাকে চেয়েছিলাম জীবনের প্রথম বেলায়। অথচ সেই তুমি অবজ্ঞা আর অবহেলার চাদরে মুড়িয়ে চলে গেছ দূর থেকে আরও বহুদূর। ভালো থেকো সেই প্রত্যাশা করি।
ইতি,
তোমার সোহান
কলমাকান্দা, নেত্রকোনা