অনিকের স্বপ্নের চোখে মায়াবী কাজল এঁকে দেয় অদিতি। সে অনিকের ভরসার নাম, স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার প্রেরণার নাম, এক অনন্য ভালো লাগার নাম। ক্ষয়িষ্ণু বুকের ঘরে স্বস্তির নিশ্বাস হয়ে জীবনে আসে অদিতি। ভালো লাগা-মন্দ লাগা, দুঃখ-সুখের সব কিছু শেয়ার করে একে অপরের সঙ্গে। পাশে থেকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়। অদিতির অধরা ছোঁয়ায় অনিকের স্বপ্নের বাগানে লাল–নীল গোলাপ ফুটে নিত্যভোরে। হারিয়ে যায় অনন্য শুভ্রতায়, সুন্দর কথামালায়। অনিক মাঝেমধ্যে অবাক হয়, কাছে না থেকেও একজন মানুষ আরেকজনের পাশে দাঁড়াতে পারে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হতে পারে কেমন করে? কত বিচিত্র এই পৃথিবী। কখনো কখনো পৃথিবীটা কত সুন্দর হয়ে ধরা দেয়, ঠিক ভেবে উঠতে পারে না সে।

অনিক ভাবে, অদিতির সঙ্গে পরিচয় না হলে হয়তো এই বিশাল পৃথিবীর অসাধারণ ভালো লাগার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতো। যাকে কখনো দেখেনি, কখনো দেখা হবে কি না নিশ্চয়তা নেই। অথচ কী এক অসম্ভব আকুলতা, ব্যাকুলতা নিয়ে প্রতিমুহূর্তে প্রতীক্ষায় থাকে।

তবে অদিতি কখনো অনিককে ভালোবাসে কিংবা ভালো লাগে এমনটি বলেনি। কিন্তু সে তাঁর সুখ-দুঃখের অনুভূতিগুলো টের পায়। বুঝতে পারে কিসে কষ্ট হয়, কিসে আনন্দ পায়। এ কারণে কখনো কষ্ট দিতে চায় না। অনিক বড় কল্পনাবিলাসী, আবেগপ্রবণ। সেই আবেগ বুঝতে পারে অদিতি। মাঝেমধ্যে সতর্ক করে বলে, এত আবেগ নিয়ে চলতে গেলে জীবনে কষ্ট পেতে হবে। কিন্তু অনিক সহজ আবেগের মায়াময় বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। সামান্য কারণে বড় কষ্ট পায়। পরম আবেগের আতিশয্যে সে মাঝেমধ্যে অদিতির ব্যক্তিগত বিষয় জানার চেষ্টা করে। কিন্তু অদিতি এমন আচরণ মেনে নিতে পারে না। অনিককে সংকীর্ণ মনের বলতে দ্বিধা করে না। একদিন অদিতি স্পষ্ট করে বলে দেয়, তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার অধিকার সে কাউকে দেয়নি।

এক অসহ্য বেদনাবোধ অনিককে আঁকড়ে ধরে। এভাবে কথা শুনতে হবে, কখনো ভাবেনি। সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কী করবে। অদিতিকে ছেড়ে থাকতে খুব কষ্ট হবে। কিন্তু অধিকারহীন সম্পর্ক কীভাবে টিকিয়ে রাখবে বুঝতে পারে না। আঁধারের হাতছানিতে ডুবে যায় তাঁর স্বপ্নের চাঁদ।