বর্ষার রূপকথা

বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারে পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘর উঁচু করে নিয়েছে এক পরিবারছবি: নেয়ামতউল্যাহ

সুনীল আকাশে কালো মেঘের ছায়া,
দক্ষিণ দিক থেকে মৃদুল সমীরণ যেন বাদল দিনের সংকেত দিয়ে যায়,
ফাঁকে ফাঁকে সোনালি সূর্য উঁকি মারে;
ছড়িয়ে দেয় তার মায়াবী দৃষ্টির আলো,
প্রকৃতিতে সৃষ্টি করে এক অন্য রকম আবহ।

জলভরা মেঘের মোহে নেচে ওঠে গাছপালা, প্রান্তর, খাল–বিল, নদীনালা।
একমুঠো রোদ আর মেঘের কণার চুমে; কদমের শাখে শিরশির দিয়ে যায়।
প্রকৃতির এমন রূপকে অপরূপ করতে; সাতরঙা শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে থাকে মুগ্ধ আকাশ।
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ব্যাঙের আওয়াজ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে,
রাতের প্রকৃতিকে আরও মাতিয়ে তোলে।

মিটিমিটি জোনাক পোকার আলো দেখে রুপালি চাঁদ সহসা খিলখিলিয়ে হাসে।
পুকুরপাড়ের বাঁশঝাড় থেকে ভেসে আসে ডাহুকের ডাক।
বলাকার ডানায় বর্ষার আলপনা দেখে; গ্রামের খোকা-খুকুর মন চঞ্চল হয়ে পড়ে,
অবগাহন করবে বলে তারা বর্ষাকে আমন্ত্রণ জানায়।

কৃষক, জেলের মনে আনন্দের ঢেউ জাগে।
কদম, কেয়া, বকুল, কামিনীর সুবাসে সুবাসিত চারদিক।
ঘন ঘন বিজলির চমক আর কাদম্বিনীর ডাকে, বৃষ্টি মেয়ের মন অস্থির হয়ে ওঠে।
আচমকা মেঘের মিনার ফুঁড়ে; রিনিঝিনি শব্দ করে সে নাচতে থাকে,
শীতল করে অবনির প্রাণ, সতেজ করে প্রকৃতি।