বিয়ের ফুল

প্রতীকী ছবিরয়টার্স

সেদিন পাশের বাসার এক আন্টি সকাল সকাল বাসায় এসে আম্মাকে বললেন, ‘শুনছেননি ভাবি, ওই বাসার রাহাত তো এক মাইয়্যা নিয়া ভাইগ্যে গেছে। ছি ছি ছি! এই পাড়ায় এখন লজ্জায় মুখ দেখামু কেমনে, কন?’

আম্মা চেয়ারটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘মুখ দেখানোর দরকার নেই ভাবি। আপনে পাখার নিচে শান্ত হয়ে বসেন। একটু জিরিয়ে নেন। অনেক দূর থেকে আসছেন। চা নিয়ে আসি। চা-টা খান। খামাখা মাথা গরম কইরেন না।’

‘না না ভাবি, আপনে কী কন! আমার বসে থাকার সময় আছেনি? আমার হাতে একদমই সময় নাই। আরও দুয়েকটা বাসায় খোঁজখবর নিতে যাইতেছি। দেখছেন ভাবি, নাক টিপলে দুধ পড়বে এইটুকু এইটুকু পোলাপান কত বড় কাজটাই না করল! ভাবা যায় এগুলা, আপনেই কন?’

আম্মা কিছু না বলে রান্নাঘরে চা বানাতে গেলেন।

এই ঘটনার কয়েক দিন পরই ওই আন্টির মেয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেল। পুরো পাড়ায় রটে গেল এই সংবাদ। আন্টি একদিন আমাদের বাসায় এসে বললেন, ‘ভাবি, এককাপ চা দেন তো খাই। অনেক দিন ধরে আপনের হাতের চা খাই না। আপনের হাতের চা না খাইলে জীবনডা পানসে পানসে লাগে!’
আম্মা বললেন, ‘শুনলাম, আপনার বড় মেয়ে শিউলি নাকি পালিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে! এটা কি সত্যি?’
‘নাউজুবিল্লাহ, কী যে কন না আপা। ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে। বুদ্ধিটুদ্ধি হয়েছে। বিয়ের ফুল ফুটছে। ওদের পছন্দমতো বিয়ে-শাদি করে ফেলছে। এতে নাক গলানোর কী আছে! এই বয়সে একটু-আধটু হয়েই থাকে। বিয়ে-শাদির ক্ষেত্রে মানুষের কোনো হাত নাই, বুঝলেন ভাবি? যা হয়েছে, সবই আল্লাহর ইচ্ছায়ই হয়েছে!’

শিক্ষার্থী, বাইতুস সালাম অ্যারাবিক ইউনিভার্সিটি, উত্তরা, ঢাকা