আজ সারা দিন কোনো দানা পড়েনি পেটে। গরিবের ঘরে জন্ম নুরুনের। জন্মের পরই মাকে হারায়, দশ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে বাবাও মারা যান। এরপর থেকে বৃদ্ধ নানিকে নিয়ে একটি খুপরিতে বসবাস তার। মানুষের ঘরে কাজ করে কোনোমতে সংসার চলে।
কয়েক দিন ধরে হাতে কোনো কাজ নেই। ঘরে খাবারও শেষ হয়ে এসেছে। যার–তার ঘরে গিয়ে কাজও করা যায় না। ভরা যৌবন শাড়ি দিয়ে ঢাকা কি এত সহজ? সেদিন তো বুড়ো আনাই মিয়া বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে নানির কাছে আসে। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে বুড়ো, তবু যেন বিয়ের শখ মেটে না।
নানি বাড়ি এসে বলে, ‘তোর লাইগা বিয়ার সম্মোধন লইয়া আইছি।’ নুরুনের মুখ কালো হয়ে যায়, আষাঢ় মাসে কালো মেঘ যেমন আকাশকে ঢেকে রাখে, তাঁর মুখেও সেই চিত্র ফুটে ওঠে।

নুরুনের নিজের বলে কেবল একজন মানুষই আছে, মতিন। সেও গরিব, চাল–চুলা কিছু নেই। আছে শুধু সুঠাম দেহ আর কালো দুটো চোখ, যে চোখে তাকালে মুগ্ধতায় নুরুন বোবা হয়ে যায়, মুখ দিয়ে কথা আসে না। নানিকে জবাব দেয় নুরুন। বলে, ‘তুই গিয়া বিয়া ব, আমারে কস ক্যা?’
নানি রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলে, ‘পোড়ামুখি, তুই না খাইয়া মরবি, আমারেও মারবি। আনাই মিয়ার কিয়ের কমতি? খাওনদাওন সব তো ভালোই। বেটা মাইনষের বয়স আবার কিয়ের রে? যা মন চায় কর গা, তোর নাগর লইয়া বাইগা যা। আমি কইলাম গলায় দড়ি দিয়াম কাইলকা।’

নানি ঘর থেকে বের হয়ে যায়। অনেক কষ্ট করে নিজের মনকে শান্ত করে নুরুন। পেটের জ্বালা আর সহ্য হচ্ছে না। আনাই মিয়াকে বিয়ে করলে পেটের ক্ষুধা থাকবে না, এটা নুরুন ভালো করেই জানে। তাই একদিন নানির পছন্দে বয়স্ক লোকটির সঙ্গেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে গেল সে।
মতিনকে নিয়ে আর ভাবতে চায় না নুরুন। তবু ভাবে, হয়তো মতিন তাকে কোনো দিন মাফ করবে না। সব সুখ তো আর একসঙ্গে পাওয়া যায় না। ভালোবাসা ছেড়ে এসেছে পেটের জন্য, কষ্ট হলেও মেনে নিতে হবে। এভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে।
লেখকের ঠিকানা: টিলাগড়, সিলেট

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন