ফুল হাতে বাচ্চা মেয়েটাকে দারুণ লাগে। শনিবার অবন্তীর সঙ্গেও দেখা হয় শফিকের। সপ্তাহের এই একটা দিনই তারা দেখা করে। এই এক দিন শফিক খুবই প্রাণবন্ত থাকে, মাঝেমধ্যে মনমরাও মনে হয়। বিকেলে সেন্ট্রাল ফিল্ডের খোলা মাঠে হাঁটা, সূর্যাস্ত হয়, পাখিরা নীড়ে ফেরে; তিন বছর ধরে এভাবেই চলছে।
আজ অবন্তী ব্লাউজের সঙ্গে নীল শাড়ি পরেছে। হাতে নীল-সাদা চুড়ি, কপালে কালো টিপ। অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। সে রুপন্তীর ছোট বোন, তিন বছরের ছোট। এই ডিসেম্বরে ১৮ বছরে পা রাখবে। রুপন্তীর সঙ্গে শফিকের সম্পর্কের সব ঘটনাই তার জানা। রুপন্তী বেঁচে থাকতে শফিক ছিল অবন্তীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।

তিন বছর আগের এক শনিবারের কথা। শফিক স্টেশন চত্বরে বস্তির বাচ্চাদের পড়াচ্ছে। হঠাৎ অবন্তী ফোন করে জানায়, তার বোন মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে। সেখানে ছুটে যায় শফিক। কিন্তু পায়নি, জানতে পারে রুপন্তীকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। শফিক এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে চমেকে চলে যায়। রুপন্তীর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। এক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছে। দেখা হয় শফিকের সঙ্গে, হাতে ছিল গ্ল্যাডিওলাস ফুল। সেটি দেখে রুপন্তী খুব খুশি হয়। সেদিন রাতেই মারা যায় রুপন্তী।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। ক্রমে ধূসর হচ্ছে দিনের আলো, শফিকের স্মৃতির ক্যানভাসও। অবন্তীকে বাসায় পৌঁছে দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকে সে। তার বাবা কলা অনুষদের অধ্যাপক। জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে সামনে আসতেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। দৌড়ে একটা যাত্রী ছাউনিতে আশ্রয় নিল শফিক। অবন্তী বৃষ্টিতে ভিজছে। বেশ কয়েকবার শফিক তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে নিষেধ করল। কর্ণপাত করল না অবন্তী। ভারী বৃষ্টিতে ভিজে চুপসে গেছে মেয়েটা। প্রশান্তি নিয়ে উপভোগ করছে সে।
হঠাৎ কী মনে করে শফিকও পথে নামল। যদিও বৃষ্টিতে ভেজা শফিকের স্বভাববিরুদ্ধ কাজ। বৃষ্টির ফোঁটা নতুনত্বের বার্তা নিয়ে ঝরে পড়ল ওদের শরীরে। চারদিকে নীরব নিস্তব্ধতা, সবকিছু ধুয়েমুছে যাচ্ছে। শুধু বর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছে আর দৃষ্টির সীমানায় দুটো ছায়ামূর্তির হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য!

বন্ধু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন