সে প্রতিদিন গ্রামগঞ্জে খাঁটি নারকেল তেল বিক্রি করত। যার কারণে তেল বিক্রেতার প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে তেল বিক্রি হতো কিন্তু মধু বিক্রেতার মতো অধিক পরিমাণ মুনাফা হতো না। তারপরও তেল বিক্রেতা প্রতিদিন তেল বিক্রি করে যা উপার্জন করত, তাতেই খুশি হয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করতেন। অন্যদিকে মধু বিক্রেতার লাভের পরিমাণ বেশি হলেও সে শুকরিয়া আদায় করত না। এভাবে দুজন প্রতিদিন গ্রামগঞ্জে তেল ও মধু বিক্রি করে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে আসত এবং হাত-মুখ ধুয়ে রাতের খাওয়াদাওয়া শেষ করে একটা নিরিবিলি স্থানে বসে ব্যবসার হিসাব-নিকাশ করত। হিসাব-নিকাশ করে দেখত, মধু বিক্রেতার মুনাফার পরিমাণ বেশি হয়েছে।

অন্যদিকে তেল বিক্রেতার মুনাফার পরিমাণ কম হয়েছে। মধু বিক্রেতা ভেজাল মধু বিক্রি করে অনেক টাকার মালিক হয়ে গেল এবং সে অসৎ টাকা দিয়ে দালানকোঠা তৈরি করে আরাম-আয়েশে দিন কাটাতে লাগল। অন্যদিকে তেল বিক্রেতার ব্যবসায় লাভের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে কোনো রকম খেয়ে-পরে কুঁড়েঘরে দিন কাটতে লাগল। মধু বিক্রেতাকে দালানকোঠায় মহাসুখে জীবন যাপন করতে দেখে তেল বিক্রেতার মনে হিংসা জাগ্রত হলো না। পক্ষান্তরে মধু বিক্রেতা তেল বিক্রেতাকে কুঁড়েঘরে বসবাস করতে দেখে অহংকার আর আভিজাত্যের গৌরবে তাকে অবহেলা করতে লাগল।

কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস, হঠাৎ একদিন রাতের আঁধারে বিরাট ভূমিকম্প হলো এবং সেই ভূমিকম্পে মধু বিক্রেতার দালানকোঠা একনিমেষে ধ্বংস হয়ে গেল। কিন্তু তেল বিক্রেতার কুঁড়েঘরের কোনো ক্ষতি হলো না। আভিজাত্যের গৌরব আর অসৎ উপার্জনের টাকা চিরস্থায়ী থাকে না। কিন্তু হালাল উপার্জনের টাকা যুগ যুগ ধরে গচ্ছিত থেকে যায়।

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন