অন্তর্জ্বালা
মনে আছে, পরাণ খুইল্লা কইছি কথা পক্ষির লাহান
রাইত বিরাইতে দেখছি কত, আসমানের ওই জ্যোৎস্না চাঁদ
বুকের ভেতর ধরফড়াইতো, ধরলে তোমার নরম হাত,
খালি কইতা ডর লাগে, ভাইঙা যায় যদি মায়ার বাঁধ।
কইতাম আমি এমন কথা, মুখে আনতে নাই!
তোমার লগে সংসার পাতুম, বুকে দিয়ো একটু ঠাঁই।
চক্ষুতে দিয়া গাঢ় কাজল, বানতা চুলে বেণি-ফিতা
যহন কইতাম জড়াইয়া ধরমু, তুমি দিতা কতই ছুতা!
দুই একখ্যান দিন কইযে হারাও, দেহি না যে বকুল তলায়,
আনচান কইরা কাইপা উঠতাম, ছাইড়া আমায় কইযে পালাও!
খাইছি কসম, কমু না কথা! গোস্যা করছি তলেতলে,
আইসা যহন ধরতা কানে, গোস্যা যাইতো বানের জলে।
গঞ্জে যেবার মেলা বইত! আনতাম কিন্যা আলতা চুড়ি
তুমি কইতা ভালোবাসো তো! চুল পাকলেও হইলে বুড়ি?
হাছা-মিছা কেচ্ছার ছলে, অন্তর আমার ব্যাবাক জ্বলে
আমি হইলাম তোমার নাগর! বৃক্ষের লাহান কমু ফলে।
বেয়ান বেলাই সজাগ হইয়া, চাইয়া থাকি তোমার পানে,
বুড়ি হইবা আমার লগেই, আল্লা-খোদা সবই জানে।
শুইন্যা তুমি ছলছলাইতা, ডুইব্যা যাইতা মায়ার টানে
রঙ্গ কইরা কইতা তুমি, সোয়ামি মানছি মনে-মনে...
ঝড় আইস্যা ভাঙল স্বপ্ন, কোন অতীতের লাগল পাপ
নদীর ঘাটে ডাঙার ওপরে, দংশিল কোন বিষের সাপ।
ঝন্তর-মন্তর পড়ল ওঝা, ছাড়ল নারে ওই অভিশাপ।
সোনা মুখখান বিষে নীল, আঙ্গার হইয়া পুইড়া ছারখার
তোমায় ছাড়া করমু কেমনে! এই দুনিয়ায় জীবন পার।
আতর চন্দন পালকির বদল, কাটলাম আমি দাফন বাঁশ
তোর শোকেতে হইলাম কাতর, আমি এখন জিন্দা লাশ।