প্রিয় নীলিমা,
জানি ঘরে বিদ্যুৎ নেই, মেঘ নামবে নামবে, তোমার ছোট্ট কক্ষে গোধূলি ছুঁই ছুঁই। তুমি খোলা চুলে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে দুচোখ উঁচিয়ে আকাশটাকে দেখছ। উত্তরের মৃদু হাওয়ায় তোমার খোলা চুলগুলো উড়ে যেন পালিয়ে বাঁচতে চাইছে। তবে তোমার চোখ দুটো অনড়, সারিবদ্ধ বকের দল কীভাবে ডানা ঝাপটে ঘরে ফিরছে, তাতেই তোমার দৃষ্টি স্থবির। খানিক পরেই ডান হাতের তর্জনিতে শাড়ির আঁচলটা মোড়াতে মোড়াতে চোখ দুটোর ঘোর ভেঙে গেল। কিসের যেন প্রত্যাশা সে চোখে, কিসের আবেদন! আমি তা বুঝতে পারি।
একটুকরা কাগজ, তাতে কয়েকগুচ্ছ শব্দ। যেসব শব্দের ভেতর তুমি কিছু অনুভূতি খুঁজে পাও। নিরানন্দ বিনাশী প্রশান্তি খুঁজে পাও আর খুঁজে পাও তোমার অস্তিত্ব। আমি সেসব শব্দ সাজিয়েই তোমায় আজ লিখছি, একটি একক পাতার চিঠি। তবে এ চিঠি তোমার কোমল হাতের পরশ পাবে কি না, আমার জানা নেই। আমার তো পত্র পাঠানোর পায়রা নেই। ডাকপিয়ন? না না, তার হাতে সে সময় কোথায়। তার তো থলেভর্তি কতশত চিঠি। সে ওই সব বিলি করতেই কূল–কিনারা পায় না। তাই এ চিঠিখানা আমি উত্তরের হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলাম। যদি তা তোমার খোলা চুলের মিষ্টি গন্ধের পানে ছুটে যায়, তবে তুমি চিঠি পাবে।
ইতি,
তোমার প্রিয়তম
বন্ধু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা