সুখ, তুমি কী!
সুখ! তুমি কী?
কেমন তোমার অবয়ব?
নাক, মুখ, কর্ণ, বর্ণই–বা কেমন!
কিসে তোমার দর্শন মেলে?
কিসের বিনিময়ে তোমার অধিকার মেলে?
কিসের অনটনে তুমি অধরা রও!
কিসের আতিশয্যে তুমি ধৃত হও?
জানতে যদি পারতাম গো কভু!
ছুটতাম না, মিছে মায়া, মরীচিকা, তোমার পিছু।
পরিণত হতাম আমি তোমারে পাওয়ার প্রয়াসে তবু।
যাপিত জীবনের অযাচিত ভাবনারা করে সব এলোমেলো।
তুমি যে নীল পরি! নীলাঞ্জনা! ছড়াও ধরায় নীলাভ আলো।
নীলা পাথর হয়ে কল্পলোকে যে লুকিয়ে রয়,
নিঃস্ব-রিক্ত, ব্যর্থ আমি কেমনে তার নাগাল পাই!
স্বপ্নদর্শনেই যার হর্ষ-আমোদ,
সুখ তার কেমনে থাকে অমোঘ।
দুঃখের দিবার আগুনে ক্ষণের শেষে যে সুখ আসার ছিল,
এল না আর সে, সুখের অন্বেষণেই জীবন গেল।
এখন আমার হৃদয়সাগরে অন্তহীন বেদনারাশি,
প্রশ্ন নিয়ে মনে উঁকি দেয় অহর্নিশি—
সুখ, তুমি কী?