তুমি আমার কাছে ধূসর খামে রঙিন স্বপ্নের চিঠি চেয়েছিলে। আমি চিঠি লেখায় অপটু বলে আর লেখা হয়নি। তুমি কিঞ্চিৎ অভিমানও করেছিলে বটে। ভেবেছিলাম, আসন্ন চিঠি দিবসে শব্দের সুনিপুণ গাঁথুনিতে হৃদয়ের কথা বলব। অতঃপর চিঠি দিবস এল এবং চিঠির প্রেরকও রইল। শুধু নেই চিঠির সেই প্রাপক। তবু প্রথম আলো বন্ধুসভার ওয়েবসাইটে তোমায় নিয়ে আমার বিস্তৃত অনুভূতির ছোট্ট খোলা চিঠি রয়ে যাক আরও অন্তত এক যুগ।
প্রিয় হৃদয়গ্রাহী,
শুরুতেই তোমার প্রতি হৃদয়নিংড়ানো ভালোবাসার উষ্ণতা ও শরতের নীলাকাশের ভাঁজে ভাঁজে মিশে থাকা মেঘের স্নিগ্ধতাময় প্রীতি। তোমায় নিয়ে চিঠি লেখা আমার জন্য দুঃসাহসিক কাজ। তোমায় নিয়ে আমার ভেতরে যে বাঁধভাঙা অনুভূতি রয়েছে, সেটাকে পুঁজি করে মহাবাক্য লেখা যাবে। অবশ্য আমাদের পথচলা শুরু হয় তোমার হাতে বানানো এককাপ চায়ে চুমুক দিয়ে। আমাদের সম্পর্কের শিরোনাম হতে পারে ‘এককাপ চা, অতঃপর একটি মহাকাব্য’। বিশ্বাস করো, আমি শরৎচন্দ্র হলে কালজয়ী উপন্যাস রচনা করে তোমার প্রতি আমার গভীর প্রণয় শত শত বছর বাঁচিয়ে রাখতাম। যদি নজরুল হতাম, তাহলে সুরের মূর্ছনায় ভালোবাসার কথা বাতাসের কানে কানে জানিয়ে দিতাম আর আকাশকে করতাম মাতোয়ারা। লেওনার্দো দা ভিঞ্চি হলে রং–তুলিতে জগদ্বিখ্যাত মোনালিসার চেয়ে সুন্দরভাবে ক্যানভাসে আঁকতাম তোমার মুখখানি। তবে আমি তেমন কেউই নই বলে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হবে না, সেটা তো হতে পারে না! এই তো লিখছি তোমায় এলোমেলো ভাবনা, বুঝে নিয়ো অনুভবে।
মনে পড়ে, জ্যোৎস্নারাত্রিতে একসঙ্গে দুই হাজার মিটার হাঁটার কথা। সেই রাতের সাক্ষী আসমানের চাঁদ আর রাস্তার নিশ্চুপ ল্যাম্পপোস্ট। স্মৃতিতে ভাস্বর আবছা আলোয় হেঁটে হেঁটে চা পান আর তোমার সঙ্গে গল্প করার কথা। তুমি নেই, তবে তোমার ভালোবাসার উষ্ণতা আমি আজও খুঁজে পাই নিঝুম রাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে। তোমার প্রতি আমার নেই কোনো অভিযোগ, রয়েছে সীমাহীন অনুরাগ। অনন্তকাল তুমি অনিন্দ্যসুন্দরের উৎকৃষ্ট উপমা হয়ে বেঁচে রইবে হৃদয়মন্দিরে। আমি পূজারী হয়ে তোমার সৌন্দর্যের পূজায় উৎসর্গ রাখব আমাকে। পরিশুদ্ধ আত্মায় ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হোক তোমার জীবন। সজীবতার ছোঁয়ায় প্রাণোচ্ছল হোক পৃথিবী।
তোমারই—
মুহম্মদ সজীব
শরতের ১৭, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বন্ধু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা