প্রিয় বন্ধু
প্রথমবারের মতো অনলাইনে চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে অসংখ্য চিঠি এসে জমা হয়। প্রতিযোগিতায় সমন্বয়ক ছিলেন ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হাসান। বিচারকদের যাচাই বাছাইয়ের পর সেরা চিঠিগুলো প্রকাশ করা হলো।
প্রিয় বন্ধু,
রবীন্দ্রনাথ একবার লিখেছিলেন, ‘চিঠি তো কেবল খবর পাঠানোর মাধ্যম নয়, এ যেন একখানি মনের টুকরোকে খামে ভরে অন্য মনের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’
অথচ জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে আমার সেই মনের টুকরোগুলো খামে ভরা আর হয়ে ওঠেনি। কত কথা তোকে বলব ভেবে মন ব্যাকুল হয়ে থাকত, কিন্তু তোর সামনে এলে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা এসে চেপে বসত।
মনে আছে আমাদের সেই ব্রহ্মপুত্রপাড়ের বিকেলগুলোর কথা? যখন লালচে রোদ্দুর নদীর জলে রুপোলি আলো ছড়াত, আর আমরা কাশবনে হাওয়া খেলে যাওয়া দেখতাম। তুই তখন কত–কী বলতি—ভবিষ্যতের স্বপ্ন, প্রেমও পথচলার গল্প। আর আমি নদীর স্রোতের দিকে তাকিয়ে শুধু ভাবতাম, এই ক্ষণটুকু যেন কখনো শেষ না হয়। তুই যখন বলতি, ‘কিরে, কী এত ঘুইরা ঘুইরা ভাবস?’ আমি হেসে এড়িয়ে যেতাম। তোর ওই একচিলতে সহজ বন্ধুত্ব যে আমার ধূলিমলিন জীবনে কতটা শান্ত–শীতল পরশ এনে দিত, তা তোকে কোনো দিন মুখে বলা হয়নি।
আজকাল শহরের এই যান্ত্রিক কোলাহলে যখন বড্ড ক্লান্তি আসে, তখন তোর ওই সহজ সরল মুখটা আর স্মৃতির কাশবনের দোলাটাই আমার একমাত্র আশ্রয় হয়ে ওঠে। দূরত্বের কারণে এখন আর আগের মতো ক্ষণে ক্ষণে তোর খোঁজ নেওয়া হয় না, একসঙ্গে বসা হয় না; কিন্তু মনের গহিনে তোর অবস্থান ঠিক আগের মতোই অটুট।
আমার এই না-বলা কথাগুলো কোনো আলংকারিক ভাষায় সাজানো নয়, এতে লেগে আছে আমাদের কৈশোরের স্মৃতি আর নদীর হাওয়ার ঘ্রাণ। তুই যেখানেই থাকিস, বড্ড ভালো থাকিস বন্ধু।
ইতি,
তোর পুরোনো সহযাত্রী।
উপদেষ্টা, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা