‘নরওয়েজিয়ান উড’ মূলত তরুণ বয়সের প্রেম, বন্ধুত্ব, একাকিত্ব, মানসিক টানাপোড়েন আর হারিয়ে যাওয়ার গল্প। উনিশ বছর বয়সী তোরু ওয়াতানাবে তার জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষের কথা মনে করে ফিরে তাকায়। সেই স্মৃতির মধ্যেই আছে প্রেম, বিচ্ছেদ, বিষণ্নতা ও মৃত্যুর উপস্থিতি।
বইটির সবচেয়ে ভালো লাগার দিক হলো হারুকি মুরাকামি খুব সাধারণভাবে মানুষের ভেতরের জটিল অনুভূতিগুলো তুলে ধরেছেন। চরিত্রগুলো কেউই পুরোপুরি ভালো বা খারাপ নয়। প্রত্যেকেরই নিজের মতো দুর্বলতা, দ্বিধা আর অপূর্ণতা আছে। তাই পড়তে পড়তে চরিত্রগুলোকে বিচার করার চেয়ে তাদের বোঝার চেষ্টা করতে হয়। নাওকো চরিত্রটা আমার সবচেয়ে বেশি মনে ধরেছে। তার অসহায়ত্ব, একাকিত্ব আর তোরুর প্রতি ভালোবাসাটা খুব সহজেই অনুভব করা যায়। অন্যদিকে মিদোরি চরিত্রটা একেবারেই আলাদা প্রাণবন্ত, স্বাধীনচেতা এবং বেশ অদ্ভুত। তোরু যেন এই দুই বিপরীত জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ।
মুরাকামির লেখার আরেকটা দারুণ বিষয় হলো, তিনি বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনা ও স্মৃতিকে এমনভাবে মিশিয়ে দেন যে কখন কোনটা বাস্তব আর কোনটা মনের ভেতরের জগৎ, সেটা নিয়ে ভাবতে হয়।
বইটায় প্রেম আছে, কিন্তু এটা মোটেও প্রচলিত প্রেমের গল্প নয়; বরং প্রেমের মধ্য দিয়ে একাকিত্ব, মানসিক ভাঙন আর মানুষকে হারানোর ভয়কে দেখানো হয়েছে।
তবে একটা কথা, বইটায় বিষণ্নতা, মৃত্যু ও যৌনতার প্রসঙ্গ বেশ খোলামেলাভাবে এসেছে। তাই সবার কাছে বইটা ভালো নাও লাগতে পারে।
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়