নীলাবতী
কেন জানি না, আমি একজন নীলাবতীকে অনেক বেশি ভালোবাসি। ওকে পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা যেমন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তেমনই মেরে ফেলছে তিলে তিলে। যার তিলোত্তমা চোখ আমাকে ঘুমাতে দেয় না। যার বহু বছর আগে বলা ‘ভালোবাসি’ শব্দটা এখনো কানে বাজে। আমাকে ভালোবাসার মতো সরল একটি কাজ ছাড়া যে একসময় কিছুই বুঝত না, সে আজ পৃথিবীর কঠিনতম প্রেমে মগ্ন।
তার সেই প্রেমময় পৃথিবীতে আমার অস্তিত্ব খুবই ক্ষীণ অথবা অস্তিত্বহীন। একটা ‘ভালোবাসি’ শোনার জন্য বুকের ভেতর হাহাকার করে, যেন একটা মরুপ্রান্তরে দাঁড়িয়ে একফোঁটা জলের তৃষ্ণায় মৃত্যুর প্রহর গুনছি। এটা তৃষ্ণা নাকি নেশা, জানা নেই। মাঝেমধ্যে মনে হয়, একটা নেশার ঘোরে বিভোর হয়ে খুঁজছি তাকে, আবার কখনো মনে হয় প্রচণ্ড তৃষ্ণায় হৃৎপিণ্ড শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে।
এ এক আজব পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব। প্রচণ্ডরকম ভুলে যাওয়ার স্বভাবেও তাকে ভুলে যেতে পারি না। প্রচণ্ড খামখেয়ালির মধ্যেও তার খেয়াল ছাড়তে পারি না। কুয়াশার মতোই শীতল সে। তবে তার ছোঁয়া শরীরে বাধিয়ে দেয় হাড়কাঁপানো জ্বর। সেই প্রচণ্ড জ্বরে নিকোটিনে পুড়ে যাওয়া ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বের হয় শুধু তার নাম; যেখানে অপ্রাপ্তি, ভালোবাসা মিলিয়ে যায় আবার সেই শীতল, ঠান্ডা অধরা কুয়াশাতেই।