একা মেয়ের গল্পে ডুবে এক দিনেই শেষ ২৮৭ পৃষ্ঠার বই

মাহরীন ফেরদৌসের ‘জলজ লকার’।

ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। একটা উপন্যাস ১০ পৃষ্ঠা পড়ব বলে হাতে নিয়েছিলাম। প্রথমে ভালো লাগেনি, একটু পড়ার পর বইটা আর হাত থেকে রাখতে পারলাম না। কাহিনিতে ডুবে গেলাম। জীবনে প্রথমবার সারা দিন টানা পড়ে ২৮৭ পৃষ্ঠার একটা বই শেষ করলাম।

গল্পটা আহামরি কোনো কিছু নয়, কিন্তু লেখিকা মাহরীন ফেরদৌসের লেখার মধ্যে কী যেন একটা আছে, যা বইটাকে ছেড়ে উঠতে দেয়নি।

‘জলজ লকার’ একটা একা মেয়ের নারী হয়ে ওঠার গল্প। বইটিতে কোনো শহরের নাম উল্লেখ নেই, কিন্তু কোন শহরের কথা বলা হচ্ছে, তা বোঝা যায়। সমাজের আইনের দুরবস্থার কথাও উঠে এসেছে—কীভাবে ভুল মামলায় নিরপরাধ মানুষকে এ দেশে ফাঁসানো হয়।

একটা সময় আমাদের সবার জীবনেই এমন হয়, যখন আমরা চুপ হয়ে যাই। প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কিছু করতে ইচ্ছা করে না। জীবনে সবাই এমন একটা ধাপে পৌঁছায়। গল্পের নায়িকাও সে রকমই একজন।

গল্পের চেয়েও এই উপন্যাসের ভাষা অনেক বেশি সুন্দর, যা পাঠককে আচ্ছন্ন করে রাখে একধরনের মায়ায়; লেখার মায়া, শব্দের মায়া, ভাষার মায়া।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়