সিনেমা: চিলড্রেন অব হেভেন
পরিচালক: মাজিদ মাজিদি
দেশ: ইরান
নিম্নমধ্যবিত্ত জীবন। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। শুরুতে জোহরার পুরোনো ছেঁড়া জুতাই চোখে আঙুল দিয়ে সেই অবস্থা উপলব্ধি করিয়ে দেয়। মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হলো যখন সেই জুতা ময়লা ভেবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী এসে নিয়ে যায়। আলীর অসহায় ভয়ার্ত অনুসন্ধিৎসু চোখ অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সেই জুতার আর হদিস পায় না। অন্যদিকে বোন জোহরার কাছ থেকে সেটা লুকানোর তো উপায় নেই। কিন্তু জোহরা তো মা-বাবাকে বলেই দেবে ঘটনা। অভিনব চুক্তি, যুক্তি আর পেনসিলের লোভ দেখিয়ে জোহরাকে আটকায় আলী।
এবার তাদের প্রবেশ জীবনের আসল দৌড়ে। যেহেতু দুজনের এক জোড়া জুতা আর বাবার সামর্থ্যও নেই কিনে দেওয়ার। তাই ভাইবোন মিলে এক জোড়া জুতা দিয়েই স্কুলে আসা-যাওয়া শুরু করে। জোহরার স্কুল ছুটির পরই সে দৌড়ে আসে ভাই রাস্তায় অপেক্ষায় দাঁড়ানো। তড়িঘড়ি করে সে জুতা পায়ে দিয়ে শুরু হয় স্কুলের দিকে আলীর দৌড়। জীবনের দৌড়ে হেরে যায় সময়ের কাছে। স্কুলে প্রতিদিন দেরির জন্য শুনতে হয় বকা। কিন্তু কি-বা করবে। বিকল্প তো কিছুই নেই দুজনের।
এরই মধ্যে একদিন জোহরা তার সেই পুরোনো জুতার সন্ধ্যান পায় এবং যে মেয়ের পায়ে দেখে তার পিছুও নেয়। কিন্তু তাদের পারিবারিক অবস্থা দেখে ছোট্ট জোহরাও বড় হয়ে উঠে মুহূর্তের জন্য। সে আর কিছুই বলে না মেয়েটাকে।
স্কুলে জুতার দিকে জোহরার বারবার তাকানো। ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা। বাবার সঙ্গে আলীর কাজে ছুটে যাওয়া। দারিদ্র্যের কষাঘাত। সব মিলেমিশে যেন জীবনের এক পরিপক্ক উপাখ্যান। গল্প এগোতে থাকে। এদিকে স্কুলে শুরু হয় প্রতিযোগিতা এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে থাকে এক জোড়া নতুন জুতা। আলীর চোখ এবার সেদিকে যায়, যেভাবেই হোক এই জুতা তার চাই। অনেক কষ্টে স্যারকে রাজি করায় প্রতিযোগিতায় তাকে রাখার জন্য। জীবনের সেই দৌড়টা প্রতিযোগিতার মাঠেও কাজে লাগায় এবং প্রথম হয়! বারবার জিজ্ঞাসা করে যে সে তৃতীয় হয়েছে কি না! এই দৃশ্যে আলীর সজল চোখ সবাইকে নাড়িয়ে দেবে। সে তো প্রথম হতে চায়নি! সে তো শুধুই এক জোড়া জুতা চেয়েছে।
সাবেক সহসভাপতি, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা