বাইশটি বছর কেটে গেল মোর সবিতার হাসি দেখে,
প্রভাত ছেঁদিয়া গোধূলি গড়াল অবনির মায়া মেখে।
সকাল হইতে পাখি কলরবে বাঁধিনু সামান্য সুর
শরতের আকাশে সাদা আর সাদা দূর অতিদূর।
বসন্ত হেরিতে কতক শীত কাটালাম হিম-রাত
বিষণ্ন তমসা অতল অবধি কামনায় শুভ্র প্রভাত।
জ্যোৎস্নারে দেখি ভাবিতে ভাবিতে রাত্রি অতন্দ্র
স্থির আজও আকাশের গায় হীরক জ্বলিয়া চন্দ্র!
ক্ষণিকের তরে সুখ খুঁজিবারে আকাশের পানে চাই
সে–ও বোঝে প্রকৃতি প্রেমিক আপন করিছে তাই।
বাইশের কাছে পথ চেয়ে চেয়ে মোর চঞ্চলা দুটি আঁখি
হৃদয়ে পুড়িয়া যতন করিয়া কোথা তাহারে রাখি।
তৃণফুল দেখে অবহেলি চোখে যেদিন প্রথম দেখিনু তারে
প্রাণ ভরে দেখি বিষণ্ন করুণ ফুটেছে পথের পাড়ে।
ভরা মৌসুমে আম্রকাননে মৌ মৌ গানে গানে
বাইশের কাছে ধুন হয়ে আছে বেঁধে গেছে তাই প্রাণে।
বিধাতার দানে ধনে সম্মানে দেখেছি কতক পূর্ণ মেলা
ছোট প্রাণে মোর ভাবিয়া এসব গহিন দিয়াছে দোলা।
এখনো আমি বাইশের কাছে হারিনি এতটা হার,
প্রকৃতি আমায় দিয়ে গেছে তার শীতল চক্ষু ধার।
আঁখিঠারে তাই হেরিছি তাহারে যুঝিছি প্রতিটা দিন
ধরনির রূপ প্রকাশ করিয়া যদিবা ঘোচে এ ঋণ।
দৈন্যের খাতায় কিবা লেখা যায় প্রকৃতির প্রেম ছাড়া,
ওহে,
এ যে স্নিগ্ধ ভীষণ!!
করুণ এ বসুন্ধরা।