আমি বাংলাদেশি নই

গল্পটি ২০২৪ সালের জুনে প্রকাশিত বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের ‘তারুণ্য’ ম্যাগাজিনের দশম সংখ্যা থেকে নেওয়া।

অলংকরণ: অভিনয় আহমেদ

১৯৭২ সাল। আমি তখন মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের জন্য গঠিত একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাউন্সেলিংয়ের জন্য নিযুক্ত হয়েছি। কাউন্সেলিংয়ের সময় তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা আমাকে বারবার অশ্রুসিক্ত করে তুলেছে। তবু তাদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলাম।

তারিখটা ঠিক মনে নেই। তবে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে একটি মেয়ে এল। বয়স ১৬ অথবা ১৭ বছর হবে। দেখতে খুবই মিষ্টি, তবে চোখে অন্য ধরনের এক জ্যোতি ছিল। প্রথম দেখাতেই আলাদা একটা টান অনুভব করি।

দুই দিন পর তার সঙ্গে কাউন্সেলিংয়ের শিডিউল অনুযায়ী সাক্ষাৎ হয়। প্রথম দিকে খুবই জড়তা থাকলেও কিছু প্রশ্ন-উত্তর ও কথাবার্তার পর ধীরে ধীরে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। ডাক্তারের তুলনায় অনেক বেশি রোগী থাকায় সেদিন তাকে খুব বেশি সময় দেওয়া যায়নি। এতটুকু মনে আছে, কয়েকবার নাম জিজ্ঞেস করার পর সে ছোট্ট করে বলেছিল, ‘পারুল।’ বাড়ি কোন জেলায়, ঠিক মনে নেই। বাবা ছিল স্কুলমাস্টার।

তার সঙ্গে আবার আট দিন পর দেখা হয়। তখন জানতে পারি, বড় ভাইয়ের যুদ্ধে যাওয়ার খবর শুনে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বাড়িতে তিনজন রাজাকার পাকিস্তানি হানাদারদের নিয়ে হামলা চালায়। মা–বাবাকে মারধর করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত তাকে ক্যাম্পেই আটকে রাখা হয়েছিল।

ব্যস্ততার মধ্যে দীর্ঘদিন আর দেখা হয়নি। প্রায় এক মাস পর পারুলের সঙ্গে আবারও সাক্ষাৎ হয়। সেদিন সে তার জীবনের নির্মম ইতিহাস আমাকে জানায়।

১৯৫৫ সালের মে মাসে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম। আমি পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। বাবা স্কুলমাস্টার হওয়ায় যুদ্ধের আগপর্যন্ত নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ হয়। ভালো ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলাম। বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল তখন। ভালোভাবেই চলে যাচ্ছিল জীবন। কিন্তু ১৯৭০-এর শুরু থেকে আমাদের জীবনের গতিপথ অন্যান্য বাঙালির মতোই দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। ভাইয়া ঢাকায় থাকার কারণে মা–বাবা দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এর মধ্যেই ২৫ মার্চের ভয়াল রাতের ঘটনা ঘটল। শুরু হয় আমাদের পলাতক জীবন। তখন এক মফস্‌সল শহরে থাকতাম। ২৫ মার্চের ঘটনার তিন দিন পর সেখান থেকে আট কিলোমিটার দূরে এক আত্মীয়ের বাড়ি চলে যাই। ১০ দিন সেই বাড়িতে থাকার পর বাবা অবস্থা বুঝে পরামর্শ দেন গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার। এই অবস্থা কত দিন চলবে, বোঝা যাচ্ছিল না। দিন চারেক পর আমরা সেখান থেকে দাদাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিই। দাদাবাড়িতে পৌঁছানোর পর সবাই আমাদের দেখে একটু স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু মা–বাবাসহ অন্যরা ভাইয়াকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছিল। ভাইয়ার কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।

ক্যাম্পে তোড়জোড় বেড়ে গেল। মাসের মাঝামাঝি একদিন বিকেলে ওই নরক থেকে আমাদের বের করে আনা হলো। শুনলাম, আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে। নতুন দেশ, নাম বাংলাদেশ।

প্রতিদিন বিভিন্ন দিক থেকে নানা রকম খবর আসতে লাগল। পাকিস্তানিদের অত্যাচারের নানা রকম বর্ণনা পেতাম। এভাবেই দিন চলে যাচ্ছিল। হঠাৎ একদিন জানতে পারলাম, মুক্তির জন্য আমাদের দেশের লোকজনও যুদ্ধ করছে। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের ওদিকে তখন হানাদারদের তৎপরতা কম ছিল। দেখতে দেখতে জুন মাস শেষ হতে লাগল। একদিন শুনলাম আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণের এক গ্রামে হানাদার বাহিনী ক্যাম্প করেছে। গ্রামের মাতবর তার দলবল নিয়ে দেখা করতে গিয়ে শান্তিবাহিনীতে নাম লিখিয়েছে। এলাকার মানুষ তখন তাদের ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত। তারা জোর করে বিবাদ করলেও কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। এর মধ্যেই শুনতে পাই, এলাকার কিছু মেয়েকে তারা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। ঘরে অবিবাহিত সুন্দরী মেয়ে থাকাও যে জীবনের জন্য কতটা ক্ষতিকর, সেটা পরিবারের লোকজন বুঝে যায়। অক্টোবর মাসে ভাইয়ার ব্যাপারে খবর পেলাম, সে যুদ্ধে গেছে। ঢাকার দিকে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাইয়ার বেশ নাম ছড়িয়েছে। এর পর থেকে আমাদের পরিবারের ওপর রাজাকার বাহিনীর চাপ বাড়তে থাকে। বাবাকে যেখানে–সেখানে নানাভাবে উৎপীড়ন করতে শুরু করে।

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকের ঘটনা। রাতের খাওয়া শেষে মা–বাবা, দাদি, ফুফু, আমিসহ সবাই দাদির ঘরে আছি। ইদানীং সবাই একসঙ্গে থাকা শুরু করেছি। এখান থেকে দূরে কোথাও চলে যাওয়ার চিন্তা চলছে। আমরা নিচু স্বরে আলাপ করছি। ঘরের এক কোণে অল্প আলোয় একটি হারিকেন জ্বলছে। রাত তখন নয়টা হবে। এমন সময় শুনি কে যেন আব্বুর নাম করে ডাকছে। সবাই আঁতকে উঠলাম। এমন ডাকের কথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছিল। আরও দু–তিনবার ডাকার পর আব্বু বাইরে গেল। দরজার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলাম শান্তিবাহিনীর লোকদের পাশাপাশি তিনজন পাকিস্তানি মিলিটারিও এসেছে। সেই প্রথম স্বচক্ষে মিলিটারি দেখলাম। তারা আব্বুকে ডেকে নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে লাগল। ভাইয়া কোথায়, কী করছে—সব জানতে চাইছে। কথায় কথায় উত্তেজনার মধ্যে একজন মিলিটারি এগিয়ে এসে আব্বুকে একটা থাপ্পড় মারল। মা–ও বের হয়ে গেলেন ঘর থেকে। আব্বুকে আরও মারতে থাকলে আমরা সবাই ঘর থেকে বাইরে চলে এলাম। মা আব্বুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আব্বুকে আবার মারতে থাকে। কিছুক্ষণ মারার পর চলে যেতে যেতে তাদের নজর পড়ল আমার ও ফুফুর ওপর। একজন মিলিটারি কিছু একটা বলল। তারপর মাতবরের চারজন লোক এসে আমার ও ফুফুর দুই হাত ধরে টানতে লাগল। ভয়ে ‘বাবা, বাবা’ বলে চিৎকার করতে লাগলাম। কিন্তু বাবা মার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। মা উঠে এলে মিলিটারির এক চড়ের আঘাতে পড়ে গেল। আর উঠতে পারল না। আমাদের নিয়ে যাওয়ার সময় তারা বলে গেল, ছেলেকে দিয়ে মেয়েকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে। সেদিন থেকে আবার শুরু হলো জীবনের আরেক বিভীষিকাময় অধ্যায়।

আমাদের দুজনকে গাড়িতে তুলে হাত বেঁধে দেওয়া হলো। নিয়ে যাওয়া হয় মিলিটারি ক্যাম্পে। দুজনকে প্রথমে একসঙ্গে রাখা হয়েছিল দুই দিন। তৃতীয় দিন ফুফু আর আমাকে আলাদা করে দেওয়া হলো। সেই যে ফুফুর থেকে আলাদা হলাম, আর তাকে কখনো দেখিনি। আমাকে এক অফিসারের রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে সে আমাকে ভাইয়া ও মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, নানা রকম ভয়ভীতি দেখাল, এমনকি কয়েকটা চড়থাপ্পড়ও মারল। কিন্তু আমি তাদের সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। ওখান থেকে হাত, মুখ আর চোখ বেঁধে জোর করে গাড়িতে তুলে আমাকে নিয়ে আসা হলো আরেকটি ক্যাম্পে। এখানেও প্রথমে আমাকে একটি রুমে রাখা হয়। তখনো হাত আর মুখ বাঁধা। কয়েক ঘণ্টা ওই ঘরের খাটের ওপর বসে ছিলাম। একটু তন্দ্রা এসে ভর করে। হঠাৎ দরজা খোলার শব্দে আবার সজাগ হই। একজন মিলিটারি আমার ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। সর্বনাশ হতে চলেছে যে তা বুঝতে পারছিলাম, কিন্তু মুখ ও হাত বাঁধা থাকায় কিছু করতে পারছিলাম না। লোকটি আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে বিবস্ত্র করে তার কুপ্রবৃত্তি মেটানোর জন্য এগোল। আমি শুধু পা দিয়ে যতটুকু সম্ভব নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। একপর্যায়ে লোকটি দেয়ালের সঙ্গে আমার মাথা ঠুকে দিল। মনে হলো যেন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে। আমি একটু নিস্তেজ হয়ে পড়লে সে তার চাহিদা মিটিয়ে চলে গেল। প্রচণ্ড যন্ত্রণা আর মাথায় আঘাত নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছি, এমন সময় আরেকজন ঘরে ঢুকল। সে–ও চলে যাওয়ার পর আবার একজন এল। তৃতীয়জন চলে যাওয়ার পর সব অনুভূতি হারিয়ে ফেলি। তবে প্রচণ্ড যন্ত্রণা আর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল যে তা বুঝতে পারছিলাম। অজ্ঞান হওয়ার আগপর্যন্ত পাঁচজনের কথা স্মরণে আছে।

জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আরেকটি রুমে আবিষ্কার করি, যেখানে আমার মতোই প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় আরও ১৫ থেকে ২০ জন নারী ছিল। সবার বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। লক্ষ করলাম, আমাকে কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যার কারণে রক্তক্ষরণ বন্ধ আছে। তার পর থেকে দু-এক দিন পরপরই সেই নরকযন্ত্রণার সাক্ষী হতে থাকলাম পালাক্রমে। আমাদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য তারা দিনে একবার করে খাবার দিত। আর কেউ যেন আত্মহত্যা না করতে পারে, সে জন্য সব রকম দড়ি, শাড়ি ও ধারালো জিনিস দূরে রাখা হলো। এর মধ্যে আরও কিছু নতুন মেয়েকে নিয়ে আসা হয়। কয়েকজন বাইরে গেল, আর ফিরে আসেনি। তাদের ভাগ্যে কী হয়েছিল, জানা যায়নি।

ডিসেম্বরের শুরুর দিকে একবার শুনতে পেয়েছিলাম দেশ নাকি স্বাধীন হতে চলেছে। তখন হানাদাররা আমাদের দিকে আর নজর দিত না। ক্যাম্পে তোড়জোড় বেড়ে গেল। মাসের মাঝামাঝি একদিন বিকেলে ওই নরক থেকে আমাদের বের করে আনা হলো। শুনলাম, আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে। নতুন দেশ, নাম বাংলাদেশ। আমাদের সবাইকে পাশের একটি বড় হাসপাতালে নেওয়া হলো। চিকিৎসাসেবাসহ, নতুন জামাকাপড়, খাবার দেওয়া হয়। আমাকে সেখানে রাখা হয় এক সপ্তাহের মতো। এর মধ্যেই নাম-ঠিকানা নিয়ে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করল। একদিন দুপুরে বাবা এলেন, একা। আমার সঙ্গে কথা বললেন। বাবার শরীর আগের থেকে অনেক শুকিয়ে গেছে। জানালেন, সবাই ভালো আছে। ভাইয়া ফিরে এসেছে। কথাবার্তা বলে তিনি সেদিনের মতো চলে গেলেন। দুই দিন পর ভাইয়া এসে আমাকে নিয়ে বাড়ি গেল।

বাড়িতে যাওয়ার পথে মানুষের নানা রকম ফিসফিসানি শুনতে পাই। তারপরও দমে যাইনি। কিন্তু বাড়িতে দুই দিন থাকার পর বুঝলাম, আমি বাড়িতে ফিরে আসি, এটাও কেউ চায়নি। নিজেকে যতটা না আড়াল করে নিয়েছিলাম, তার চেয়ে বেশি আমাকে আড়াল করে দেওয়া হলো। আশপাশের বা অন্য গ্রামের যে নারীদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের কী অবস্থা, তখনো জানতাম না। এখানে এসে জেনেছি। মুক্তিযোদ্ধা বাড়ি ফিরে আসুক বা না আসুক—দুটোই ছিল সম্মানের। কিন্তু আমাদের না ফেরাটা ছিল অহংকারের আর ফেরাটা ছিল লজ্জার। কোনো রকমে নিজের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে দিন চলে যাচ্ছিল। একদিন রেডিওতে শুনলাম বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধের সময় ধর্ষিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ খেতাব দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত নারীদের যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান এবং বীরাঙ্গনাদের নিজের মেয়ে বলে আখ্যায়িত করেন। তবু আমরা সমাজের চোখে অপাঙ্‌ক্তেয় হিসেবেই রয়ে গেলাম।

একদিন বাবা আমার সামনে এসে আমতা আমতা করছিলেন। বললাম, আপনার যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে সরাসরি বলুন, লুকোচুরি করলে বরং বেশি কষ্ট পাব। তখন তিনি যুদ্ধকালীন নির্যাতিত নারীদের এই পুনর্বাসন কেন্দ্রের কথা জানালেন। বুঝলাম, আমার পরিবার, সমাজ, দেশ কোনোটাই আমাকে চায় না। আমার এই বিসর্জন যদিও দেশের জন্য, তবু আমি বাংলাদেশি না। তারপর বাবা আর ভাই মিলে আমাকে এখানে রেখে গেলেন। মা কেঁদেছিল ঠিকই। কিন্তু তিনিও সমাজের ভয়ে আমাকে ঘরে রেখে দেওয়ার কথা বলতে সাহস পায়নি।

এখানেই তার গল্পের শেষ। মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে আরও অনেক বিষয়ে কথা হতো। নার্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল এবং বেশ ভালো করছিল। মাঝেমধ্যে দেখতাম, তার ভাই কিংবা বাবা দেখা করতে আসত। কয়েকবার বাবার সঙ্গে তার মাকেও দেখেছিলাম। বাবা এসে কাঁদত। কিন্তু পারুলকে কোনো দিন কাঁদতে দেখিনি।

কয়েক মাস পর এখান থেকে আমার বদলি হয়ে যায়। তারপর পারুলের সঙ্গে আমার কোনো দিন সাক্ষাৎ হয়নি।