ছুঁতে পারিনি কোনো কাল

দেবী তুমি! মানবী নও। মডেল: মাইমুনাছবি: সাদমান সাকিফ

রোদ, ছায়া তোমাতে মিশে আছে। তুমি অপার প্রকৃতি। তুমি উর্বশী রমণীর মতো শুয়ে আছ নীল–সবুজ আরাম কেদারায়। ঘুম নদী আদর বুলিয়ে দিচ্ছে তোমার শিয়রে। তোমার দুচোখের পাতা যেন রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প। অল্প অল্প করে হয় না শেষ। এক ফোঁটা লাল টিপ যেন লাক্ষাদ্বীপ। সে দ্বীপে ছিপ ফেলে বসে আছি আমি অনন্তকাল।
চোখের আবিরে যেন বৃষ্টি শেষে রামধনু। রামধনু খেলা করে ষোড়শী বালিকার মতো এক্কাদোক্কা। কী এক নিষ্পাপতা ছড়িয়ে দাও স্বর্গময়। সমস্ত অসুর উবে গিয়ে সুরের ছন্দ খেলা করে তানপুরায়। কমলাবাগানে ঘুম পরীর আনাগোনা। নিপুণ ঠোঁট থেকে রস ছুটে পড়ে টুপটাপ। সে রস আস্বাদনে আমি প্রতীক্ষমান মহাকাল।

সময় ঘড়িটা স্থির হয়ে আছে। ঠিক তোমার বয়সের মতো। আজীবন ধরে রেখেছ স্বর্গীয় বয়স। দেবতারা সিঁদুরের কৌটো হাতে হাঁটু মুড়ে বসে আছেন তোমার পদপ্রান্তে। আশা–নিরাশার বালুচরে তারা প্রতীক্ষারত। দু-এক বিন্দু ধানদূর্বা যদি খসে পড়ে দেবীর হাত থেকে। মাটি থেকে দু-একটি কণা খুটে তোলার জন্য আমি নতজানু আজীবন।
তুমি আমায় আশাহত করে ঠেলে ফেলে দিয়েছ ডাস্টবিনে। আমি ক্ষুধার্ত কাকের মতো কা কা করি শহরময়। উদ্‌ভ্রান্ত পাগল যেমন পথে পথে খুঁজে ফেরে এক টুকরো শুকনো রুটি। তেমনি আমি স্বর্গের দ্বারে দ্বারে খুঁজে ফিরি তোমার শরীরের গন্ধ। আকাশ–বাতাস তন্নতন্ন করে খুঁজি তোমার একরশি চুল। জানি না এসবই কি আমার ভুল!

দেবী তুমি! মানবী নও। তুমি মিশে আছ রোদে, মিশে আছ ছায়াতে। অপার প্রকৃতি তুমি। স্বর্গে তোমার বসবাস। ছুঁতে পারিনি কোনো কাল। মহাকাল।