default-image

আজ আমার বিয়ে। সকাল থেকে বাড়িতে কী এক হুলুস্থুল কাণ্ড। গতকাল সারা রাত এক ফোঁটা ঘুমও হয়নি। করোনার জন্য এখন খুব কড়াকড়ি; তাই ঘরোয়া বিয়ে। দিনটা ছিল ২৬ জুন ২০২০। তুমি ওই দিন সকাল আটটায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে পৌঁছালে। দুপুর ১২টার মধ্যে আমাদের বিয়ে হয়ে গেল।

জীবনে কী যে ঘটে গেল বুঝতেও পারলাম না। তোমার হাত ধরে অচেনা এক পরিবেশে নতুন জীবন শুরু হলো আমার। হৃদয়ের সব সুপ্ত ভালোবাসা যেন জেগে উঠল তোমার ছোঁয়ায়। বাতাসে যেন কিসের কানাকানি। এত অনুভূতি এত দিন কোথায় লুকিয়ে ছিল?

বিজ্ঞাপন

মাত্র দেড় মাস ছুটি কাটানোর পর তোমার যখন চলে যাওয়ার সময় হলো, তখন এয়ারপোর্টে বিদায় দিতে গিয়ে একটুও কাঁদিনি। মনকে অনেক বুঝিয়ে শক্ত করেছিলাম যে তোমার সামনে কিছুতেই কাঁদব না। বাসায় ফিরে শূন্য ঘরটা দেখে বুকটা হাহাকারে ভরে গিয়েছিল। কেঁদেছিলাম রং পেনসিল হারিয়ে ফেলা ছোট্ট বালিকার মতো।

এই ডিজিটাল যুগ আমাকে অ্যানালগের গণ্ডি থেকে বের করতে পারেনি। চিঠি লিখতাম প্রতি সপ্তাহে দুজন দুজনকে। সেসব চিঠিতে কত না আবেগ লুকিয়ে থাকত। থাকত অজস্র ভালোবাসা। দূরত্ব আমাদের ভালোবাসাকে আরও শক্ত করেছে।

default-image

১১ জানুয়ারি ২০২১ সব আনুষ্ঠানিকতার শেষে তোমার কাছে পাড়ি জমালাম। এয়ারপোর্টে ফুল হাতে তোমাকে দেখে মনে হচ্ছিল সব আবেগ একসঙ্গে এসে হৃদয়টা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। এখনো আমরা নিয়মিত চিঠি লিখি। যেখানে লুকানো থাকে বুকভরা ভালোবাসা আর অভিমান। চিঠিগুলো অমূল্য রত্নের মতো আমরা জমিয়ে রাখি আমাদের সুন্দর দুটি চিঠির বাক্সে।

এক চিঠিতে তুমি লিখেছ, ‘তোমার হাত ধরে আজীবন হাঁটতে দিও।’ আমি বলতে চাই, তোমার হাত ধরে উথাল–পাতাল স্বপ্নে হাঁটতে চাই, বসন্তে দুর্যোগে হেঁটে যেতে চাই, তারাভরা রাতে দূর দিগন্তে পাড়ি জমাতে চাই। শুধু বলতে চাই, প্রিয় জাহা, তোমার প্রভাতি তোমায় ভালোবাসে, অজস্র।

লেখক: শিক্ষার্থী, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

বিজ্ঞাপন
বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন