default-image

হতাশায় দিন কাটছে নীলের। এ বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে সে। তখনো হলে সিট পায়নি। কিছুদিন আগেই সুমির সাথে তাঁর বিচ্ছেদ হয়েছে। এরপর অঝোরে কেঁদেছে ছেলেটি।

এক মাসের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে। তখন হলে সিট পাওয়া নিয়ে নীলের হাজারো ঝামেলা। তবুও সুমির কথা ভুলতে পারছে না। ঢাকার প্রতিটি রাস্তায় সুমির সাথে তাঁর স্মৃতি ভেসে উঠছে।

কেমন করে সব বদলে গেল! নতুন হলে উঠেছে নীল। এক রুমে আটজন থাকতে হচ্ছে। কিন্তু নীল কারও সাথে তেমন কথা বলে না। এমন করেই কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। বিষণ্নতা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। কারও সাথে দুঃখ ভাগাভাগি করতে যায় না সে।

মাসখানেক কেটে গেল। একদিন হঠাৎ পাশের রুম থেকে একটি ছেলে এল নীলের রুমে। ছেলেটি বলল, কেউ সংগঠনে কাজ করতে যাবে কি না! সবাই যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু নীল যেতে রাজি হলো। সেদিনই প্রথম নীলের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা।
সংগঠন থেকে ফিরে নীল হাসিমুখে রুমে ঢুকল। সবার সাথে মন খুলে কথা বলল, আড্ডা দিল বেশ কিছুক্ষণ। আসলে সেদিন থেকেই নীলের জীবনে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল।

সংগঠনে যুক্ত হয়ে নীল অন্যান্যদের সাথে কথোপকথন চালিয়ে যায়। নতুন মানুষদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখে। নীলের কথায় এবং কাজকর্মে অনেক পরিবর্তন আসতে থাকে। সংগঠনে নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার পর তাঁর জগৎ পাল্টে গেল। নীলের একাকীত্ব দূর হলো।

সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর নীল বেশির ভাগ সময় নষ্ট করত। আজ সে শুধু দেশের উন্নয়ন নয়, নিজের উন্নয়নেও ব্যস্ত। নীলের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গিয়েছে। আজ সে সংগঠনে উদ্ভাবনী কাজ করে। সংগঠনে কাজ করতে গিয়ে বইপড়ুয়া বন্ধু হয় নীলের। এখন নীলের অবসর কাটে বিভিন্ন লেখকের বই পড়ে। নীলের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করেছে সংগঠন। নীল অনুপ্রাণিত হয় সংগঠনের লেখালেখি দেখে। আজকাল নীলকে একটু–আধটু লিখতেও দেখা যায়।

সম্ভাবনাময় নীল হয়তো ঝরেই যেত। হয়তো নেশায় ডুবে যেত নীল। নয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নিত। জীবনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারত না। নিজেকে বিকশিত করতে পারত না। কিন্তু সংগঠন তাঁর পথচলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আজ নীল স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখায়। এখন দেশের একজন গর্বিত স্বেচ্ছাসেবকের নাম নীল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0