বিজ্ঞাপন

মৌমিতা কাশফুলের মতো ধবধবে সাদা রঙের একটা ড্রেস পরেছে। অনেক সময় নিয়ে পরিপাটিভাবে বেশ মনের মতো সেজেছে। চোখে গাঢ় করে দিয়েছে মাসকারা, কপালে নীল টিপ, ঠোঁটে ম্যাজেন্টা কালারের লিপস্টিক, খোলা চুলে ঝুলিয়ে রেখেছে রজনীগন্ধা ফুলের মালা। দেখতে ঠিক যেন সাদা পরির মতো লাগছে। হঠাৎ করে ফোন বেজে উঠতেই দেখল রাশেদের কল। রাশেদ জানাল, সে রওনা দিয়েছে আর মৌমিতাও যেন এক্ষুনি বাসা থেকে বের হয়ে যায়। দেরি না করে মৌমিতা বের হয়ে গেল। একটা রিকশায় চড়ে নদীর পাড়ে পৌঁছে গেল। যাওয়ার পথে রাশেদের জন্য কিছু গিফটও কিনে নিল।

মৌমিতা ধীরপায়ে হেঁটে কাশবনের দিকে যাচ্ছে আর রাশেদের সঙ্গে একটু পরই দেখা হবে ভেবে পুলকিত হচ্ছে। সামনে এগিয়ে দেখে সেখানে বেশ কিছু মানুষ কিন্তু এদের মধ্যে কোথাও রাশেদ নেই। তারপর কল দিয়ে জানতে পারে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রাশেদ সেখানে পৌঁছে যাবে। মৌমিতা ভীষণ রাগ করল। সে ভেবেছিল, রাশেদ আগেই পৌঁছে তার জন্য অপেক্ষা করবে। যা-ই হোক, পাঁচ মিনিট পর একটা ছেলে এসে বলল, ‘আপনি নিশ্চয়ই মৌমিতা, রাশেদের অপেক্ষায় আছেন।’ মৌমিতা সম্মতি প্রকাশ করে জানতে চাইল, ‘রাশেদ কোথায়?’ ছেলেটি জানাল, ‘আপনার জন্য সারপ্রাইজ আছে, আমার সঙ্গে চলুন।’

তার কাছে ব্যাপারটি কেমন যেন লাগছিল কিন্তু সারপ্রাইজের কথা ভেবেই ছেলেটার সঙ্গে হাঁটতে থাকে। মৌমিতা ছেলেটার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে কাশবনের বেশ ভেতরে ঢুকে পড়ে। হঠাৎ করে অচেনা তিন যুবক এসে মৌমিতার মুখ চেপে ধরে এবং তার শরীরের ওড়না দিয়ে শক্ত করে মুখ বেঁধে ফেলে। তারপর মাটিতে ফেলে তিনজন মিলে জোর করে চেপে ধরে থাকল। মৌমিতা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই যেন ঘটনাটি ঘটে গেল। অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে বাঁচাতে পারল না।

এদের মধ্যে কেউ রাশেদ ছিল না। মৌমিতা ফেসবুকে রাশেদ নামে যাকে ভালোবেসেছিল, সেটা ছিল মূলত একটা ফেক আইডি। ভিন্ন একটা ছেলের ছবি ব্যবহার করে এত দিন মৌমিতার সঙ্গে মিথ্যে প্রেমের অভিনয় করেছে।

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান: কুইন্স, নিউইয়র্ক, আমেরিকা

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন