গতকাল সন্ধ্যায়ও রমিজ মিয়া সালিস বৈঠকে দুই নাম্বারি করেছে। রহিমের কাছ থেকে পনেরো শ টাকা খেয়ে তার পক্ষে মিথ্যা রায় দিয়েছে। উপরন্তু নিরপরাধ করম আলীকেই বর্বরভাবে অপমান করল। করম আলী শিশুর মতো বুক চাপড় দিয়ে বিলাপ করছিল! আর দুহাত ওপরে তুলে আল্লাহর কাছে নালিশ করেছিল। অন্যায়ের বিচার চেয়েছিল সে।

গ্রামের সবার মুখে একই কথা, রমিজকে ভূতে ধরছে। একেকজন একেকভাবে গল্পটা রসিয়ে কষিয়ে বলছে। তবে অনেকে খবরটা শুনে মনে মনে খুশিও হয়েছে। বিটুলরা করম আলীর খুপরি ঘরে ঢুকে বলল, ‘দেখছ চাচা, আল্লার মাইর শেষ রাইতে। তুমি নগদে বিচার পাইলা। তমাল, ট্যাহাগুলা আমার কাছে দে। এই ধরো, এহানে পনেরো শ ট্যাহা আছে। রাখো। আবার ইস্কুলের সামনে তুমি ঝালমুড়ি বেচবা। আমগোরে মাঝে মাঝে একটু বেশি খাওয়াইয়ো কিন্তু।’ টাকাটা হাতে নিতেই করম আলীর চোখটা ছলছল করে উঠল। তবে মুহূর্তেই শামুকের মতো কান্নাটা লুকিয়ে করম আলী মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল, ‘বাজানরা, হুনলাম ভূত নাকি পাঁচটা আছিল? তয় এহন বাকি দুইটা কই?’ শরীফ বুদ্ধিজীবীর মতো উত্তর দিল, ‘চাচা, রুমেল আর শাহিন ভূতের কথা হুনলে ডরায়...! কথাটা শেষ হতেই না হতেই সবার হাসির শব্দে করম আলীর খুপরি ঘরটা কেঁপে উঠল। ভৌতিক ব্যাপারস্যাপার…

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন