বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আসমা নির্বাক হয়ে মাটিতে বসে আছে। কোনো সাড়াশব্দ নেই তার। অসাড় দেহ এক্ষুনি মাটিতে লুটিয়ে পড়বে এমন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলো খিদের যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করছে। আসমার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

অবাক দৃষ্টি মেলে করুণ চোখে নদীর দিকে তাকিয়ে আছে।

আসমার সাজানো সংসার। চৌচালা দুটি টিনের ঘর, গোয়ালভরা গরু আর বিঘে পাঁচেক ধানি জমি ছিল। স্বামী রহিম মিয়া আর দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে সুখের সংসার। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও স্বামী রহিম মিয়া কখনো আসমাকে অবহেলা করেনি। জাগতিক সব সুখ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে আসমার জগৎ। অভাব থাকলেও ভালোবাসার কমতি ছিল না।

দুই বছর আগেও নদী তিন কিলোমিটার দূরে ছিল।

পাঁচ বিঘা অল্প অল্প করে নদীগর্ভে চলে গেল। এখন শেষ আশ্রয় বাড়িটাও শেষ।

স্বামী-সন্তান নিয়ে কোথায় যাবে, কী খাবে, এই চিন্তায় দিশেহারা আসমা। নদীভাঙার শব্দে বোবা ও বধির হয়ে গেছে সে। সর্বনাশী নদী তাদের নিঃস্ব করে সব কেড়ে নিল।

ঝুপঝাপ শব্দে নদীর উত্তর পাড়ের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গাছগাছালি, ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি—সব চোখের পলকে নদী কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে।

একবারে নদীর পাড় ঘেঁষে বসে আছে আসমা। যেকোনো সময় নদীর পাড় ভেঙে তলিয়ে যেতে পারে নদীতে। শেষ আশ্রয় হারিয়ে রহিম মিয়া অসহায় ভঙ্গিতে ছুটে এল আসমার কাছে। ডেকে সাড়া না পেয়ে হাত ধরে টেনে তুলল তাকে। অসহায় আসমার কানে এখন শুধু ভাঙনের শব্দ ছাড়া অন্য কিছু নেই।

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন