বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কিন্তু রশিদ সাহেবরা কি সহজে কাউকে ছেড়ে দেবেন। তাদের দল সব সময় ভারী। আয়োজক কমিটির নামে তারা সমাজের ওপর চাপিয়ে দেন জগদ্দল পাথর। ভাগ্য ভালো, আজ এ ধরনের কোনো কমিটি নেই। কিন্তু যারা ছিল, তাদের মধ্য থেকে স্লোগান, কারও পাশে দাঁড়ানো চলবে না। ফাল্গুনিদিকে একাই পার্টি দিতে হবে। জানি না লিখনের মতো তারও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ বা নিশ্বাস দ্রুত ওঠা-নামা করছিল কি না। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে লাভ নেই। চেষ্টা করলে ফাল্গুনিদির ঘরের মানুষ উত্তমদার কাছে খবর পাওয়া যাবে। আর আমজনতার এত জেনে কাজ কী। তাদের কাজ হলো ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় চলে যাওয়া। যদিও এ কাজও সবাই ঠিকভাবে করে না।
আমাদের এক বড় ভাই আছেন। শোনা যায়, তিনি খুব ভালো মানুষ। নামের শেষে আল রশিদ। এক সন্ধ্যায় জাতির একাংশের উদ্দেশে ঘোষণা দিলেন, সবাইকে ‘সুন্দরবন’ নিয়ে যাবেন। পলাশ নামের তার এক ছোট ভাই আছেন। এরা সব আমাদের বড় ভাই। তিনি কেন পিছিয়ে থাকবেন। ঘোষণা দিলেন, একদিন তিনিও সাবইকে হাওর দেখাতে নিয়ে যাবেন। মনে পড়ে যায় সেই কবিতা, ‘…নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো। নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো?’

default-image

জাতির এই দুঃসময়ে সবাই কিছু না কিছু অবদান রাখতে চায়। মৌসুমী, পারভেজ ভাই, শাহিন, উত্তমদা—তাদেরও অনেক পরিকল্পনা আছে। চেয়ারে উপবিষ্ট সবার উদ্দেশে বলতেও চেষ্টা করছেন। কিন্তু রশিদ ভাইদের চিৎকারে সেটা বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। তারাও দমে যাওয়ার পাত্র নন। কেউ শুনুক, না শুনুক, বারবার পরিকল্পনা উত্থাপন করছেন। এর কোনো একটি বাস্তবায়ন হলে জাতির ভাগ্য আর দুই ভাগও হবে না, ঝুলতেও থাকবে না।
এখানে শিক্ষক, অধ্যাপক, বিতার্কিক, অভিনয়শিল্পী, উপস্থাপক, চাকরিজীবীসহ অনেক গুণীজন। শেষ পর্যন্ত ভরসা ছিল দুইজন শিক্ষকের ওপর। তারা হয়তো এত আড্ডা, ঘোরাঘুরি পছন্দ করবেন না। বলবেন যে স্কুল খুলেছে, চলো সবাই ক্লাসে যাই। তারা তো সবাইকে ছাত্রই মনে করেন। কিন্তু তাদেরও এসবে অপার আগ্রহ।
আমি ছিলাম অনুষ্ঠানের শেষ দিকে পৌঁছানো দ্বিতীয় ব্যক্তি। আমারও পরে এসেছিল খেয়া। খেয়ার তো আসা নয়, যেন আগমন। আমাদের এক নেতা ঘোষণা করলেন, খেয়া আসছে, সবাইকে থাকতে হবে।

default-image

আমার দুই পাশে ছিল সব বড় মানুষ। যাদের দুই চোখ বন্ধ করে রশিদ সাহেবদের গ্রুপে ফেলা যায়। ডান পাশে ছিল নাজমুল এইচ পলাশ, সাইদুল হাসান, ড. সোলায়মান কবির, বর্ষা, জ্যোতি, ফাল্গুনিদি, ফরহাদসহ আরও অনেকে। ফরহাদের জন্য এক লাইন বলা দরকার। ও সম্প্রতি বিয়ে করেছে। হয়তো এখনো ঘোরের মধ্যে আছে। এই যুগলকে বহুবার দেখেছি ভার্চ্যুয়ালি। আজই প্রথম সরাসরি দেখার দুর্লভ সুযোগ হলো।
আবার বাঁ পাশে যারা আছেন, তারাও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। মহান রুকাইয়া, শাহিন, সাদেক, মৌ, বহ্নি, উত্তমদা, পারভেজ ভাইসহ অনেকে। কথা ছিল উত্তমদার সঙ্গে আর কথা হবে না। ওই যে কার যেন কবিতায় আছে, কেউ কথা রাখেনি। তাই আমাদেরও আর কথা রাখা হলো না। আবার কথা হলো দুজনের।

default-image

এতক্ষণ যা–ই বলি না কেন, এবার বলি আসল কথা। সেদিন ছিল সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ। সকালটা শুরু হয়েছিল অন্য আর দশটা সকালের মতো করেই। শুরু করেছি দিনের কাজও। এমন সময় মুমিত আল রশিদের মেসেজ। ‘আজ সন্ধ্যায় সুপার স্টারে দেখতে চাই’। ব্যস্ততা এতটুকু কমেনি। না যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিলাম। একসময় রাত নেমে এসেছে, ৮টার বেশি। আমি নিশ্চিত যে সকালের মেসেজ বিবর্ণ সন্ধ্যায় হারিয়ে গেছে। তা ছাড়া দ্রুত বাসায় ফেরা দরকার। ব্যাগ কাঁধে কেবলই বেরিয়েছি। ঠিক তখনই সাদেকের ফোন। এক্ষুনি মুমিত স্যার আপনাকে আসতে বলেছেন। না যাওয়ার জন্য আগে অনেকগুলো কারণ রেডি করলাম। তারপর মুমিত ভাইকে ফোন। তিনি কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে শুধু বললেন, ‘যদি না আসেন আর কোনো দিন কথা হবে না।’ বলেই রেখে দিলেন। সুপার স্টারে গিয়ে দেখি, অসংখ্য বন্ধু। ডাইনিং হলের চারপাশ ঘিরে বসে আছে। হঠাৎ দেখে মনে হলো, এটা কোনো বিচার–সালিসের আনুষ্ঠান। পরের মুহূর্তেই আবিষ্কার করলাম, না এখানে ডিনার হচ্ছে। সবার সঙ্গে যোগ দিলাম।

default-image

শাকিব বলল, ‘ভাইয়া, আপনি খাসি না মুরগি।’ আমি তো অবাক! মনে করতে চেষ্টা করলাম, যখন এখানে আসব বলে হাঁটা শুরু করেছিলাম, তখন কী ছিলাম। মাত্র পাঁচ মিনিটেই–বা কী এমন রূপান্তর হলো। তাকিয়ে দেখি যে না, সব ঠিকই তো আছে। বললাম, খাসিও না, মুরগিও না। আমি মানুষ। একটু হেসে দিল। ‘ভাইয়া কী খাবেন, খাসি না মুরগি?’ মুরগি। কিন্তু চারপাশে তাকিয়ে দেখি সবাই খাসি। ভাবলাম আরে! চারপাশে এত খাসি। একা মুরগি হয়ে কি টিকতে পারব? পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন ওয়েটার ভাই। কাছে ডেকে কানে কানে বললাম, ‘দেখেন না ভাই চারপাশে সবাই খাসি। আমাকে কী করবেন।’ বললেন স্যার, ‘আপনিও খাসি হয়ে যান।’ খেতে খেতে ভাবছি, শেষ পর্যন্ত এটাই বাকি ছিল। কপালে আরও যেন কী আছে!

default-image

প্রিয় বন্ধুরা, প্রথম যে লাজুক মেয়েটির কথা বলেছিলাম, সে মেয়েটি মোটেই লাজুক না। ভদ্রমহিলার নাম মোহতারিমা রহমান। পরের ঘটনা সবই আপনারা জানেন।
ছোটবেলায় পরীক্ষায় সারাংশ লিখতে হতো। এই লেখার সারাংশ করতে হলে প্রথমে চোখ বন্ধ করে ওপরের সবটুকু ফেলে দেবেন। তখন সারাংশটা দাঁড়াবে, বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ ও ঢাকা মহানগর বন্ধুসভা সারা বছর ভার্চ্যুয়ালি অনেক প্রোগ্রাম করেছে। কারোনাকালে তারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে বন্ধুসভার রুমে সভা করেছে। কেবল ঢাকা মহানগর বন্ধুসভা না, জাতীয় পরিচালনা পর্ষদও বছরব্যাপী অনেক কর্মশালা করেছে। তাই বিশেষ করে জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুমিত আল রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী মৌসহ তাঁরা ভাবছিলেন, কীভাবে সব বন্ধু মিলে একটা গেট-টুগেদার করা যায়। এরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে ১১ তারিখ শনিবার কারওয়ান বাজার সুপার স্টারে হলো এক জমকালো আড্ডা ও খাওয়াদাওয়ার অনুষ্ঠান।

আশফাকুজ্জামান: কলাম লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক। উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর বন্ধুসভা।

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন