default-image

একসময় পাঠক ফোরামে ছিলাম। তারপর বন্ধুসভার শুরু থেকে আজও আছি। এটা আমার জীবনে এক অনন্য ঘটনা। বন্ধুসভার মাধ্যমে আলোকিত হয়েছি। মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়েছি। বন্ধুসভা এমন একটা জায়গা, যেখানে গেলে আনন্দ পাই। এটা মেধা–মনন দিয়ে কাজ করার একটা ক্ষেত্র। এখানে নতুন জীবন পাই। নতুনভাবে কাজ করার উৎসাহ পাই।

বন্ধুসভা তরুণদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। তাদের জীবন সম্পর্কে সচেতন করে। তাদের সত্যিকার মানুষ হতে শেখায়। বন্ধুসভার মানবিক ও সাংস্কৃতিক কাজের জন্য আমাদের একটা দল ছিল। এ দলের সদস্য ছিলেন লেখক ইমদাদুল হক মিলন ও সাইদুজ্জামান রওশন। শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু ও সংগঠক আশফাকুজ্জামান। রাজশাহী, দিনাজপুর, নেত্রকোনা, বরিশালসহ বন্ধুসভার কাজে দেশের কত জায়গা–ই না গিয়েছি। সে সময়ের স্মৃতিগুলো দারুণভাবে মনে পড়ে। জীবনকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করে।

বিজ্ঞাপন

আবিদ নামের আমাদের এক তরুণ বন্ধু ছিল। সে–ও আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেত। গাড়িতে বসে তার দারুণ বরীন্দ্রসংগীত শুনতাম। সেই বন্ধু এখন আর নেই। চলে গেছে না ফেরার দেশে। আজ এই দিনে তাঁকে ভীষণভাবে মনে পড়ছে। বন্ধুসভার সঙ্গে দেশজুড়ে আমরা সমাজসচেতনতামূলক কাজ করতাম। আমাদের কোনো ক্লান্তি ছিল না। এখন সেটা মনে পড়লে অবাক হতে হয়। কীভাবে সেটা করতে পেরেছি! দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণাই এটা সম্ভব করেছিল।

বন্ধুরা নিজের জন্য তেমন কিছু করে না। তারা করে মানুষের জন্য। শীতে, বন্যায় অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যায়। বন্ধুসভা দেশব্যাপী লাখ লাখ গাছ লাগায়। দরিদ্র শিশুদের উৎসবে পোশাক দেয়। গণিত অলিম্পিয়াড ও ভাষা প্রতিযোগে কাজ করে। মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে দেশের মঙ্গল হয়। বন্ধুদের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি হয়। তাদের মননশীলতার বিকাশ ঘটে। সামনের দিনগুলোয় বন্ধুসভা দেশ ও মানুষের জন্য আরও ভালো কাজ করুক। আরও এগিয়ে যাক। শেষে এই প্রত্যাশা করে শেষ করছি, জয় হোক বন্ধুসভার। জয় হোক বন্ধুদের।

মোহিত কামাল: কথাসাহিত্যিক ও মনোচিকিৎসক

(লেখাটি প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘পঞ্চম জাতীয় বন্ধু সমাবেশ ২০২০’–এর স্মরণিকা থেকে নেওয়া হয়েছে)

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0