সাইফ ভাবছে এমন দিনে ছাতা ছাড়া বের হ‌ওয়া সত্যিই বোকামি। প্রয়োজনে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছুই ভাবতে হয়। বাস্তবায়নে সক্রিয় হতে হয়। বিশ্রামাগারে বসে সাইফ নিজে নিজেই কথা বলছে। বৃষ্টিতে ভিজে শরীরে জ্বর এলে ঢাকার কাজটুকু রয়ে যাবে। খানিকটা গা ভিজিয়েই বাসে উঠল। বৃষ্টিতে স্নান করছে আর গন্তব্যের দিকে ছুটে চলছে বাস। রাস্তার পাশে সারি সারি গাছ বৃষ্টির ফোঁটায় বাতাসে আনন্দে নাচছে। পাখিরা জুটি বেঁধে জড়সড় হয়ে গাছের শাখায় ঘন পাতার আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাস এগিয়ে চলছে। শীতল হাওয়ার ছোঁয়ায় সাইফের চোখে ঘুম এসে গেল। কিছুটা পথ সে ঘুমিয়ে নিয়েছে। বাতাসের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। পাশের সিটে এক যুবক বসা। ফোনে কথা বলছিল। হয়তো প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কথা বলছে। কথা শেষ করার আগে বলল, লক্ষ্মীটি, এসে পড়েছি, একটু অপেক্ষা করো। এই বলে মোবাইলে চুমু দিয়ে সংযোগ কেটে দিল।

সাইফের মনে ভেসে উঠল সেই স্কুল-কলেজের দিনগুলোর কথা। কলেজের আঁকাবাঁকা পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে দূর থেকে আপাদমস্তক দেখে নিত সেই পাখি নামের মেয়েটির ছবি। সাহসী দুরন্ত আধুনিক মেয়ে পাখি, সাইফের মনের মতিগতি বুঝতে পারত না যে তা নয়। ডিপার্টমেন্টের বারান্দায় কাছাকাছি কথাও হতো। খুবই ভালোবাসত সাইফ। হৃদয়ে ভালোবাসা শব্দটি মেঘের মতো ভারী হয়ে উড়ে বেড়াত। প্রতিদিন একটি করে চিঠি লিখে সাইফ যত্ন করে জমা করত ছোট্ট একটি ট্রাংকে। বাসার সবাই ঘুমানোর পর রোজ খাম খুলে চিঠিগুলো পড়ে নিত সে। সুন্দর গোটগোটে হাতের লেখা, আদুরে শব্দগুলো তাকে খুবই আপ্লুত করে কখন প্রিয় মানুষটির হাতে দেবে চিঠিগুলো। একদিন দুপুরে বাগানে কামিনী ফুলের গাছটার পাশে একা দাঁড়িয়ে পাখি। আকাশটাও কেমন ঘুটঘুটে অন্ধকার করেছে। সাইফ এগিয়ে গেল। পাখিকে দেবে বলে পকেট থেকে দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি বের করে হাতে নিল। হঠাৎ দমকা হওয়া মনের কথায় সাজানো চিঠি উড়িয়ে নিয়ে গেল নিমেষেই।

সাইফের মনটা দুমড়ে-মুচড়ে গেল। কষ্টে ভরা মন নিয়ে বাসায় ফিরল। মনের কথায় সাজানো চিঠিটি প্রিয় মানুষটির হস্তগত হলো না। অনেক বছর পার হয়ে গেলেও সেই দৃশ্য, ছবি, প্রিয় মানুষটির কথা এখনো সাইফের চোখে ভাসে। জীবনের ৩২টি বছর কেটে গেল, এখনো যেন সেই দমকা হাওয়া এবং বৃষ্টিতে সাইফকে ভিজিয়ে দিয়ে যায় দুই পৃষ্ঠার চিঠি।

লেখকের ঠিকানা: মাধবপুর, হবিগঞ্জ

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন