এদিকে লেবুগাছে বাসা বেঁধেছে টুনটুনি। সিফাত প্রতিদিন দেখতে যায়। টুনটুনি তেমন কিছু মনে করে না। কোনো ভয়ভীতিও নেই পাখি দুটির মাঝে। কাছে গেলে উড়ে যায়, আবার এসে বাসায় বসে। কয়েক দিন পর সিফাত দেখল টুনটুনি ডিম পেড়েছে। সিফাতের আনন্দ আর দেখে কে? সে এই গল্প মা-বাবা, স্কুলের বন্ধুবান্ধব সবার কাছে করেছে। এমনকি বন্ধুদের চকলেট পর্যন্ত খাইয়েছে, ডিম পাড়ার আনন্দে। সেদিন স্কুল থেকে আসার পথে বন্ধুদের বাসায় এসে টুনটুনির ডিম দেখে যাওয়ার জন্য দাওয়াত করেছে।

সিফাতের মনে দারুণ উৎফুল্লতা। সব সময় মনে আনন্দ। দিনগুলো ভালোই কাটছে। এর মধ্যে টুনটুনির ছানাও ফুটেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ এখন সিফাত। তার কাছে টুনটুনি, ডিম ও টুনটুনির ছানার গল্প ছাড়া অন্য কোনো গল্পই নেই।
এখন কাজ বেড়েছে সিফাতের। ছানাগুলো দেখে রাখতে হবে, যেন বিড়ালের নজরে না পড়ে। প্রতিদিন পাহারা দেয়। কাকের ভারি উৎপাত। কাক তাড়িয়ে রাখে সব সময়। টুনটুনিরা সিফাতকে দেখলে এখন আর চেঁচামেচি করে না। খুশিই হয়।

একদিন রাতে ঝড় এল। তুমুল বেগে বৃষ্টি শুরু হয়। অনেক গাছপালা ভেঙে গেল। রাতে সিফাতের ভালো ঘুম হয়নি। সারা রাত বিছানায় এপাশ–ওপাশ করেছে। খুব ভোরে উঠে লেবুতলায় গেল। লেবুগাছের ডালপালা ভেঙে কোথায় গেছে খোঁজ নেই। পাখির বাসাও নেই। সিফাত হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। অনেক খোঁজাখুঁজি করে একটি টুনটুনি পাওয়া গেল। দূরে আমগাছের নিচে পড়ে আছে। পাখনা ভেঙে গেছে। এখনো জীবিত।

লেখকের ঠিকানা: মধুখালী, ফরিদপুর

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন