বাসায় ফিরলেই কুকুরটাকে দেখতাম ঘরের দরজার সামনে ঘুরঘুর করছে। দেখতে কালো হলেও রঙটা চিকচিক করত। সারা রাত বাড়ি পাহারা দিত আর অপরিচিত কাউকে দেখলেই চিৎকার করে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখত। আমার কখনোই পশুপ্রীতি ছিল না। ঘেউ ঘেউ শুনে মাঝেমধ্যে দুই–এক ঘা বসিয়ে দিতাম। কিন্তু আজ কান্না পাচ্ছে।
কুকরটা ঘেউ ঘেউ করছে না। দুপুরে কোথাও থেকে বেদম পিটুনি খেয়ে এসেছে মনে হয়। কোথায় আঘাত পেয়েছে বুঝতে পারছি না। হয়তো গলায় ব্যথা পেয়েছে। নীরব হয়ে আছে। কখনো খেতে না দিলেও আজ অল্প ভাত ও পানি দিলাম। ছুঁয়েও দেখল না। একবার তাকিয়ে আবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি ভাতগুলো আগের মতোই পড়ে আছে, কুকুরটাও একইভাবে শোয়া। একটুও নড়ছে না, কেবল আর্তচিৎকার শোনা যাচ্ছে। রাত বাড়ছে, অমাবস্যার কালো রাত, গাঢ় অন্ধকার, কুকুরটার জীবনপ্রদীপ যেন সেই আলোতে নিবু নিবু করছে।
মধ্যরাতে বাইরের দরজার সামনে তাকিয়ে দেখি, সে এখনো শুয়ে আছে। কোনো সাড়াশব্দ নেই। আমায় দেখে আগের মতো দৌড়ে পালাচ্ছেও না। আমার দিকে একটু নজর ঘুরিয়ে দেখল। ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে সব সময় বিরক্ত লাগত। আজ হঠাৎ সেই শব্দটি শুনতে না পেয়ে বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল। বড্ড মায়া লাগছে। কুকুরটা কাঁদছে যন্ত্রণায়, কিন্তু আমি কাঁদছি কেন? উত্তর জানা নেই।
লেখকের ঠিকানা: ময়মনসিংহ