মা কেন বললাম? আমার বাবার মা হয়ে ওঠার জার্নিটা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ঠিক সাত বছর আগে, মা মারা যাওয়ার পর। বাবা সব সময় সংসারের ভার মায়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে বাইরের দিকটা সামলেছেন। সেই মানুষটিই মা মারা যাওয়ার পর সংসারের ভেতর, বাহির এবং সঙ্গে দুই মেয়ের দায়িত্ব একা কাঁধে তুলে নিলেন।
আমি তখন সদ্য অনার্স জীবনে পা দিয়েছি। ক্লাস, কোচিং, বাসায় পড়াশুনা, সংসারের কাজকর্ম মিলে পড়ে যেতাম মহাবিপদে। কোনটা রেখে কোনটা সামলাই! বাবা যতটুকু পারতেন টুকিটাকি রান্নাবান্না কিংবা ঘর গোছানোর কাজ সামলে নিতেন, যেন আমার ওপর চাপ না পড়ে।
গত বছর বাবা দিবসে, বাবা হুট করে বললেন তিনি রান্না করবেন। গরম খিচুড়ি, আলুভাজা পাতে তুলে দিয়ে বললেন, ‘বাবা দিবসে খুব ইচ্ছে করছিল তোদের কিছু খাওয়াই।’

ভোরবেলা গাছ থেকে ফুল তুলে ছোট্ট আমি বাবার সঙ্গে শহীদ মিনারে যেতাম। বাবার কাছ থেকে আমার প্রথম দেশপ্রেমের শিক্ষা পাওয়া। আমার বই পড়ার অভ্যাসের পেছনেও রয়েছেন তিনি। আমার মা শিক্ষক ছিলেন। ম্যাটারনিটি লিভের পর আমাকে বাসায় রেখেই মা স্কুলে যেতেন। তখন আমাকে দেখাশোনা করতেন বাবা একা।
আমার সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনের গুরু তিনি। প্রথম স্কুলে যাওয়া, কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, প্রথম কলেজে যাওয়া কিংবা প্রতিটি পরীক্ষায় যাওয়া—সব এ মানুষটির হাত ধরেই। প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গে আমার যুক্ত হওয়াটাও বাবার অনুপ্রেরণাতেই। সমাজের প্রতি আমার যে দায়বদ্ধতা, তা বুঝতে শিখিয়েছেন তিনি।

লেখক: সভাপতি, প্রথম আলো বন্ধুসভা, হবিগঞ্জ

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন