খেলা শুরুর বাঁশি বাজলেই আমাকে ডেকে তুলবে

জলরংচিত্র: এআই/বন্ধুসভা

আর মাত্র তিন দিন। এরপরই পর্দা উঠবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ—ফুটবল বিশ্বকাপের। সেই উপলক্ষে বিশ্ব মেতে উঠেছে ফুটবল উন্মাদনায়। চারদিকে শুরু হয়ে গেছে তর্কবিতর্ক, কোন দল সেরা আর কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি। এই তুমুল ব্যস্ততা আর উত্তেজনার মধ্যে মনটা হুট করেই ডুব দেয় অতীতে, শৈশবের সোনালি দিনগুলোতে।

তখন বিশ্বকাপ আসা মানেই ছিল অন্য রকম এক কর্মব্যস্ততা। খেলা শুরুর মাসখানেক আগে থেকেই চলত জমানো টাকা দিয়ে প্রিয় দলের পতাকা কেনার ধুম। কার বাড়ির ছাদে কত বড় পতাকা উড়ছে, তা নিয়ে চলত অলিখিত এক প্রতিযোগিতা। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে বাঁশ কেটে এনে, ছাদের সবচেয়ে উঁচু কোনায় পতাকাটা বেঁধে যখন নিচে নামতাম, মনে হতো এক বিশাল যুদ্ধ জয় করে ফিরলাম! দেয়ালে দেয়ালে প্রিয় খেলোয়াড়দের পোস্টার লাগানো, আর ক্যালেন্ডার দেখে দেখে ম্যাচের সময়সূচি ডায়েরিতে লিখে রাখা—এসবই ছিল বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সবচেয়ে দারুণ স্মৃতিগুলো জমে আছে মধ্যরাতের ম্যাচগুলোকে ঘিরে। তখন তো এখনকার মতো সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ছিল না। ড্রয়িংরুমের একটা মাত্র রঙিন বা সিআরটি টিভিই ছিল পুরো পরিবারের, কখনো কখনো পুরো পাড়ার মিলনমেলা। গভীর রাতে খেলা থাকলে মা-বাবাকে কড়া নির্দেশ দিয়ে রাখতাম—‘খেলা শুরুর বাঁশি বাজলেই আমাকে ডেকে তুলবে।’

মধ্যরাতে চোখ ডলতে ডলতে টিভির সামনে এসে বসা, আর প্রিয় দল গোল করলেই রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে একযোগে পাড়াশুদ্ধ চিৎকার করে ওঠা—সেই রোমাঞ্চ আজ আর কোনো মাল্টিপ্লেক্স বা জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখে পাওয়া যায় না। গোলপোস্টে বল লাগলে যে বুক ধড়ফড়ানি শুরু হতো, কিংবা প্রিয় দল হেরে গেলে বালিশে মুখ গুঁজে যে কান্না—তা কেবল শৈশবের ওই নিষ্পাপ আবেগেই সম্ভব ছিল।

আরও পড়ুন

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা বড় হয়েছি। এখন হয়তো খেলা দেখার সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে, হাই-ডেফিনিশন স্ক্রিনে নিখুঁতভাবে খেলা দেখা যায়। কিন্তু শৈশবের সেই যৌথ আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে চিপস ভাগ করে খেলা দেখা আর পাড়ার মোড়ে মোড়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলা ফুটবল আড্ডাগুলো আজ ভীষণ মিস করি।

আরও একটি বিশ্বকাপ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। আবারও পতাকা উড়ছে, আবারও জার্সি গায়ে জড়ানো হচ্ছে। তবে সব নতুন উন্মাদনার মধ্যেও শৈশবের সেই পুরোনো স্মৃতির বিশ্বকাপ মনের এক কোণে সব সময় অমলিন আর রঙিন হয়ে থাকবে।

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়