সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন বাড়াতে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ

নগরীর মহিবুর রহমান একাডেমি প্রাঙ্গণে সিলেট বন্ধুসভার প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচছবি: বন্ধুসভা

বন্ধুদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন বাড়াতে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করে সিলেট বন্ধুসভা। গত ৩০ জানুয়ারি নগরীর মহিবুর রহমান একাডেমি প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

খেলায় অংশ নেয় ফয়সাল আহমেদ ও সমরজিৎ হালদারের নেতৃত্বাধীন দুটি দল। প্রতি দলে ৯ জন করে মোট ১৮ জন মাঠে নামেন। ইনিংসে ১০ ওভার করে খেলা হয়।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ফয়সাল আহমেদের দল। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেলেও বন্ধু ইমন এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের রানের চাকা সচল রাখেন। একে একে অম্লান, কৃত্য, প্রণব ও সুমন আউট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ৪৩ (৩০) রানে আউট হয়ে ফেরেন রেজাউল ইমন। সপ্তম ওভারে সর্বশেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন অধিনায়ক ফয়সাল আহমেদ। তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ওভারে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৩ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক।

খেলায় অংশ নেয় ফয়সাল আহমেদ ও সমরজিৎ হালদারের নেতৃত্বাধীন দুটি দল
ছবি: বন্ধুসভা

লক্ষ্য তাড়া করতে ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করতে আসেন গায়েত্রী বর্মণ ও পিয়াস সরকার। উইকেট না হারালেও তাদের শুরুটা ছিল মন্থর। রানের চাপ বাড়তে থাকায় আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যেতে বাধ্য হয় দলটি। তবে বন্ধু প্রণব, ফয়সাল ও ইমনের নিয়ন্ত্রিত ও দুর্দান্ত বোলিংয়ে একের পর এক বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারাতে থাকে ব্যাটিং দল। সঙ্গে ছিল দুর্দান্ত ফিল্ডিং। একে একে সাজঘরে ফেরেন আরাফ, মাহবুব হোসাইন, সমীর বৈষ্ণব। সমরজিৎ হালদারের আউটের পর পরাজয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষদিকে শুভ আর শাহরিয়ারের ব্যাটিংয়ে ডাবল ও সিঙ্গেল রান নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ৭৩ রানে গুটিয়ে যায় সমরজিৎ হালদারের দল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন পিয়াস সরকার ৩১ (৩৬)।

ফয়সাল আহমেদের অধিনায়কত্বে অংশগ্রহণ করেন আইনুল হক, রেজাউল ইমন, প্রণব চৌধুরী, অম্লান, কৃত্য, মাজেদুল ইসলাম ও সুমন। অপর দিকে সমরজিৎ হালদারের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেন গায়েত্রী বর্মণ, আরাফ, শুভ, সমীর, শাহরিয়ার, সৌম্য, মাহবুব ও পিয়াস। ছবি তোলার দায়িত্বে ছিলেন সভাপতি দেব রায় সৌমেন ও বন্ধু প্রত্যাশা তালুকদার।

নগরীর মহিবুর রহমান একাডেমি প্রাঙ্গণে সিলেট বন্ধুসভার প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ
ছবি: বন্ধুসভা

ম্যাচের সেরা ফিল্ডার নির্বাচিত হন গায়েত্রী বর্মণ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘হারলেও আমি খুশি। কারণ, একটি চোখধাঁধানো ক্যাচ নিতে পেরেছি। পরেরবার আরও ভালো করে দলকে জেতাতে চাই।’

বিজয়ী দলের অধিনায়ক শেখ ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘হার-জিত খেলারই অংশ। এ ধরনের আয়োজন বন্ধুদের মধ্যে এক অন্য রকম মিল ও বন্ধন তৈরি করে।’

পরাজিত দলের খেলোয়াড় পিয়াস সরকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘পরেরবার প্রতিপক্ষকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এর জন্য নিয়মিত অনুশীলন শুরু করব।’

বন্ধুত্ব, প্রতিযোগিতা আর আনন্দের মিশেলে এই ক্রিকেট ম্যাচটি হয়ে ওঠে সিলেট বন্ধুসভার আরেকটি স্মরণীয় আয়োজন।

স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা