শেষ বাঁশি বাজার আগে আর্জেন্টিনার ‘শেষ’ লেখা যায় না

ফাইনালে ওঠার পর লি্ওনেল মেসিকে কাঁধে তুলে উদ্‌যাপন আর্জেন্টিনা দলেরএএফপি

নিষ্ঠুর নিয়তির তপ্ত বালুচরে দাঁড়িয়ে যে তৃষ্ণার্ত চাতক বজ্রের আঘাত সয়েও পরম মেঘের জল যাচে, আর্জেন্টিনার ললাটলিখনও ঠিক তেমনই—শত পরাজয়ের দহন আর পাষাণভার বুকে চেপে তারা শেষমেশ বিজয়ের অনন্ত মরীচিকাকেই সত্য করে তোলে।

ফুটবল কেবল ২২ জন মানুষের ৯০ মিনিটের পায়ের লড়াই নয়; আর্জেন্টিনার জন্য এটি একটি আদিম ধর্ম, এক চিরন্তন আর্তি। ফুটবল ইতিহাসের ধূসর ক্যানভাসে চোখ রাখলে একটা সত্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে—স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা নিজেই যেন চান এই আকাশি-সাদা জার্সি হাসুক, স্বয়ং বিধাতাই যেন নিজ হাতে লিখে রেখেছেন লিওনেল মেসির মাথায় রাজমুকুট পরানোর এই আধুনিক মহাকাব্য।

১৯৩০ সালের প্রথম বৈশ্বিক মহারণ থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সালের মহাকাব্যিক সমাপনী—আর্জেন্টাইন ফুটবলের পথচলা যেন এক পরম ট্র্যাজেডি ও রূপকথার মেলবন্ধন। প্রতিটি ম্যাচে হারতে হারতে ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠার গল্পই হলো আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২–১ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার পর তাই আবেগের বিস্ফোরণ ঘটল মেসির। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দ!
রয়টার্স

দুঃখের নদী পেরিয়ে আনন্দের নীল আকাশ, কাব্যের আলো-ছায়ায় আর্জেন্টিনা! আর্জেন্টিনার ফুটবলকে বুঝতে হলে কেবল গোল আর ড্রিবলিং দেখলে চলে না, এর ভেতরের হাহাকার, কুয়াশা আর আনন্দকে অনুধাবন করতে হয়।
যেখানে জগতের সব কোলাহল থেমে যায়, যেখানে কুয়াশা আর বিষাদের ধূসর পাণ্ডুলিপির মধ্যেও এক অদ্ভুত জীবনের আলো, কার্তিকের নবান্নের ঘ্রাণ আর ডানার রোদ লুকিয়ে থাকে, আর্জেন্টিনার ফুটবলও ঠিক তেমনই। বহু বছর ধরে তাদের ইতিহাস ছিল ট্র্যাজেডিতে ভরা, যেন সেই বিখ্যাত গভীর পঙ্‌ক্তি—‘আমাদের ডান পাশে ধসে গেছে পথ, আমাদের বামে অতল খাদ’।
কিন্তু সেই খাদের কিনারা থেকেই, রূপসী বাংলার শঙ্খচিলের মতো তারা বারবার ডানায় রোদ মেখে ফিরে এসেছে চাঁদের আলোর দিকে।

কষ্টের দীর্ঘ ৩৬ বছরের ট্রফি খরা আর প্রতিটি ফাইনালের কান্নাকে দেখলে মনে হয়, আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা বছরের পর বছর এক তপ্ত বেদনার বালুচরে দাঁড়িয়ে কেবলই বুক বেঁধেছেন। দুঃখের সেই কবি যেমন সৃষ্টি করেছিলেন দুঃখবাদের এক অনন্য দর্শন, যেখানে প্রতিটি কান্নার অন্তরালে থাকে এক পরম প্রাপ্তির তৃষ্ণা, যেখানে বজ্রের বুকেই লুকিয়ে থাকে তৃষ্ণার্ত চাতকের জন্য সুশীতল বৃষ্টি, আর্জেন্টিনার নীল-সাদা অনুরাগও ঠিক তেমনই। সেই দুঃখ, সেই হাহাকার বৃথা যায়নি। কষ্টের মরুভূমি পেরিয়েই এসেছে বিজয়ের আনন্দ-ধারা।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা
এএফপি

আর্জেন্টিনা দলের প্রতি বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের ভালোবাসা যেন এক চিরন্তন নাছোড়বান্দা বন্ধন। মাঠের পরাজয় আর ট্র্যাজেডি যেন তাদের আরও বেশি করে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। সেই তীব্র আকুলতার সুরেই যেন সমর্থকেরা বলতে চেয়েছেন—‘আমি তোমাকে আবার খুঁজে নেব।’

আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা প্রতিবার পতনের পর প্রতিবার হারের পর বুক চাপড়ে কেঁদে উঠেও পরের ভোরে আবার সেই আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। এই ভালোবাসার কোনো জাগতিক ও ঐশ্বরিক ব্যাখ্যা হয় না।
নিষ্ঠুর নিয়তি যাকে বারবার রিক্তহস্তে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছে বেদনার বালুচরে, সেই পাষাণভার বুকে চেপেই তারা অবিনশ্বর আলো জ্বেলেছে ফুটবলের দূরাগত নক্ষত্রবীথিতে।

এই দলে কী নেই?
ফুটবলের ঈশ্বর দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা যেখানে এই দলের ধমনিতে বুনে দিয়েছিলেন দ্রোহ, ঔদ্ধত্য আর সাহসের এক অবিনাশী অগ্নিবীজ; সেখানে লিওনেল মেসি সেই রক্তিম ঐতিহ্যে এনে দিয়েছেন এক রাজকীয়, মার্জিত ও অলৌকিক পূর্ণতা। মেসি যেন ফুটবল নামক সুকুমার শিল্পের এক নিখুঁত, অনিন্দ্য ও শাশ্বত প্রতিচ্ছবি।

মেসির জীবনের আখ্যানটি ছিল এক পরম ও অবিশ্বাস্য ধৈর্যের পরীক্ষা। সেই অমোঘ বিষাদবাদের মতো, যেখানে জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে কৃচ্ছ্রসাধন আর হাহাকার। মেসির ফুটবল জীবনও ছিল তেমনই এক গভীর ট্র্যাজেডির আবর্তে বন্দী। একের পর এক ফাইনাল হারের গ্লানি, কোটি মানুষের নির্মম সমালোচনার ঝড়, এমনকি এক বুক অভিমান আর তীব্র অবসাদ নিয়ে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বিদায় জানানো—সব মিলিয়ে তিনি যেন ছিলেন এক ভাগ্য-পীড়িত মহানায়ক।

আরও পড়ুন
বদলি নামা লাওতারো মার্তিনেজের গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে এই গোলেই জয় তুলে নেয় তারা
রয়টার্স

কিন্তু নিয়তির অমোঘ বিধান তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দিতে চায়নি; কারণ, গভীর দহনের পরেই তো নেমে আসে পরম প্রাপ্তির সুশীতল শ্রাবণ-ধারা। এক অলৌকিক টানে তিনি আবার ফিরে এসেছিলেন সবুজ ঘাসের ক্যানভাসে। নিজের অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং, জাদুকরি পাস আর চোখের পলকে করা একের পর এক মোহাচ্ছন্ন গোলে তিনি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। পরিশেষে ২০২২ সালের সেই মহাজাগতিক বিশ্বজয়ের মাধ্যমে তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সিংহাসনে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নিয়েছেন।

আর এই ঐশ্বরিক সাফল্যের আলোচনা কখনোই সম্পূর্ণতা পাবে না আনহেল দি মারিয়া নামক সেই মহানায়ককে ছাড়া। তিনি ছিলেন সেই নিঃশব্দ, ছায়াময় আলোর মতো, যিনি দলের সবচেয়ে ঘোর অন্ধকারের মুহূর্তে এবং চরম সংকটের লগ্নে ত্রাণকর্তা হয়ে আলোর পথ দেখিয়েছেন। যখনই নিয়তি আর্জেন্টিনাকে কোনো বড় শিরোপার দোরগোড়ায় এনে বেদনার চরে দাঁড় করিয়েছে, তখনই দি মারিয়ার জাদুকরি পা থেকে এসেছে মহামূল্যবান গোল।

২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিক ফাইনালের সেই অবিশ্বাস্য চিপ গোল থেকে শুরু করে, ২০২১ সালে মারাকানার বুকে ব্রাজিলের দর্প চূর্ণ করা সেই ঐতিহাসিক গোল এবং ২০২২ সালে লুসাইলের রণক্ষেত্রে ফরাসিদের স্তব্ধ করে দেওয়া তাঁর সেই অনবদ্য গোল—ডি মারিয়া বারবার প্রমাণ করেছেন, তিনি কেবল বড় ম্যাচের জাদুকরই নন, বরং আর্জেন্টিনার বহু ঐতিহাসিক বিজয়ের নেপথ্যের মূল ও অদ্বিতীয় নায়ক।

যখন সব কোলাহল থেমে যায়, নক্ষত্রের আলো এসে পড়ে মাঠের নির্জন ঘাসে—তখন এক অদ্ভুত কুয়াশা আর জাদুমন্ত্রে জেগে ওঠে অপরাজেয় আকাশি-সাদার ডানা; সেই ডানার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক নিঃশব্দ জাদুকরের গভীর সাধনা।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি
এএফপি

লিওনেল স্কালোনির মাস্টারপ্ল্যান
এই রূপকথার প্রধান নেপথ্য কারিগর লিওনেল স্কালোনি যেন সেই নিভৃত কারিগরের মতো, যিনি জনমানসের ভিড় থেকে দূরে, ধূসর পাণ্ডুলিপির পাতায় পাতার মতো নীরবে বুনে চলেছেন এক অলৌকিক ইতিহাস।

২০১৮ সালের এক কুয়াশাচ্ছন্ন বিকেলে যখন তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সারথি হিসেবে এই দলের হাল ধরেছিলেন, তখন চারপাশের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল কেবলই সংশয়, উপেক্ষা আর অবজ্ঞার হিমেল হাওয়া। কিন্তু শান্ত, ধীরস্থির ও মিতবাক স্কালোনি সেই কোলাহলের দিকে তাকাননি। তিনি নিভৃতে, তিল তিল করে গড়ে তুললেন এক অপরাজেয় নীল-সাদা সাম্রাজ্য—যার নাম রক্তিম অক্ষরে লেখা হলো ‘লা স্কালোনেতা’।

তাঁর রণকৌশল কেবল ছককাটা মাঠের হিসাব নয়, যেন অদ্ভুত প্রেম, প্রগাঢ় আবেগ আর নিখুঁত প্রজ্ঞার এক অপূর্ব ও শাশ্বত মেলবন্ধন। রূপসী বাংলার কোনো এক নিপুণ তাঁতির মতো তিনি দলের প্রতিটি তরুণ প্রাণকে বেঁধে ফেললেন ভালোবাসার এক অবিচ্ছেদ্য সুতায়। সেখানে কোনো অহংকার নেই, রয়েছে পরম আত্মত্যাগ; যেখানে প্রতিটি ধমনি, প্রতিটি হৃদয় তাঁদের মহানায়কের জন্য এবং স্বদেশের আকাশের জন্য নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিতেও ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।

কোপা আমেরিকা ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন লিওনেল মেসি
ছবি: এএফপি

২০২১ সালের সেই ঐতিহাসিক রাতে, ব্রাজিলের বুক চেরা মারাকানার মাঠে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার মঞ্চে এসে তা টানা দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরে একচ্ছত্র ও চিরন্তন আধিপত্যে রূপ নিল।

২০২২ সালের লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই বুকের স্পন্দন থামিয়ে দেওয়া মহাকাব্যিক সন্ধ্যায় ফ্রান্সকে হারিয়ে তারা যে বিশ্ব জয় করেছিল, ২০২৬ সালের এই নতুন বৈশ্বিক মহারণেও সেই অপরাজেয় জেদ নিয়ে আর্জেন্টিনা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে এবং পরপর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নিজেদের অবিসংবাদিত জায়গা ছিনিয়ে নিয়েছে।

২২ জুন, ১৯৮৬ (এস্তাদিও অ্যাজটেকা, মেক্সিকো)
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই কোয়ার্টার ফাইনাল, যা ফুটবলের ইতিহাসে এক অতিপ্রাকৃতিক কাব্যের জন্ম দিয়েছিল। ম্যারাডোনার সেই খ্যাপাটে বাতাস ফুঁড়ে ওপরে ওঠা এবং ঈশ্বরের গোপন ইশারায় বল জালে জড়ানো—যাকে বিশ্ব চেনে ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে; ঠিক যেন অন্ধকার ফুঁড়ে আসা এক অলৌকিক আলো। এর ঠিক চার মিনিট পর চারপাশের সব প্রতিরোধকে ম্লান করে, ছয়জন ইংলিশ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে করা শতাব্দীসেরা একক দৌড়ের সেই জাদুকরি গোলটি দেখে থমকে গিয়েছিল গোটা মহাবিশ্ব।

বিশ্বকাপ হাতে সপরিবারে মেসি
এএফপি

১০ জুলাই, ২০২১ (মারাকানা স্টেডিয়াম, ব্রাজিল)
দীর্ঘ ২৮ বছরের ট্রফি খরা কাটানোর ফাইনাল। মারাকানার বৈরী পরিবেশে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে ডি মারিয়ার সেই চিপ গোলের পর আর্জেন্টিনার ১-০ ব্যবধানের জয়। ট্রফি জয়ের পর মেসির শূন্যে ওড়া আর কান্না দেখে ভক্তদের চোখের কোণে জল চলে এসেছিল।

১৮ ডিসেম্বর, ২০২২ (লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম, কাতার)
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ও রোমাঞ্চকর ফাইনাল। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া, এরপর প্রতিপক্ষের ঝড়ে সমতা, অতিরিক্ত সময়ে আবার ৩-৩ সমতা, শেষ মুহূর্তের সেই অতিমানবীয় সেভ এবং পরিশেষে পেনাল্টি শুটআউটে বিশ্ব জয়। এই ম্যাচটি যেকোনো নিরপেক্ষ দর্শককে বাধ্য করেছিল আর্জেন্টিনার জাদুতে আচ্ছন্ন হতে।

আর্জেন্টিনা এমন এক দল, যারা খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সৌদি আরবের কাছে হেরে ২০২২ বিশ্বকাপ শুরু করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া কিংবা প্রতিটি নকআউট ম্যাচে স্নায়ুচাপের চরম পরীক্ষা দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনা—এটাই আর্জেন্টিনার ডিএনএ।

২০২৬ বিশ্বকাপে এসেও আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে, তাদের স্কোয়াডে কেবল তারকার মেলা নেই, আছে রক্তে মিশে থাকা জেদ
রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে এসেও আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে, তাদের স্কোয়াডে কেবল তারকার মেলা নেই, আছে রক্তে মিশে থাকা জেদ। তারা হারতে হারতে জিততে জানে। তাই বিশ্বফুটবলের জন্ম থেকে আজ অবধি যারা তাদের ধ্বংসের গান গেয়েছে, ইতিহাস প্রতিবার তাদের ভুল প্রমাণ করেছে।

যখন মাঠের সব কোলাহল ধুলাবালুর মতো মিলিয়ে যায় রাতের বাতাসে, স্টেডিয়ামের শেষ আলোটুকু যখন নিভে যায় নিঝুম অন্ধকারে, তখনো সবুজ ঘাসের বুকে জেগে থাকে এক অপার্থিব নীল-সাদার মায়া।
জীবনানন্দের সেই নক্ষত্রখচিত আকাশের নিচে শিশিরভেজা ঘাসের ঘ্রাণের মতো কিংবা যতীন্দ্রনাথের বিষাদ পেরিয়ে আসা একপশলা শ্রাবণের বৃষ্টির মতো—আর্জেন্টিনা তার বুকের সমস্ত ক্ষত আর হারানোর বেদনাকে রূপান্তর করে এক শান্ত জাদুকরি জ্যোৎস্নায়।

ফুটবল যেখানে শুধু খেলা নয়, এক পরম সমর্পণ; সেখানে প্রতিটি নীল-সাদা হৃদয় যেন এক অপরাজেয় ডানার পাখি, শত ঝড়ের রাতে দিগ্‌ভ্রান্ত হয়েও যে শেষমেশ তার চিরকালের নীড়ে ফিরে আসে পরম জয়ের আলো মেখে।

কর্মকর্তা, ভূমি মন্ত্রণালয়