কালবৈশাখীর দাপট দেখা দিয়েছে পুরো দেশে। বাদ পড়েনি চট্টগ্রামও। বেশ কিছুদিন ধরেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। অথচ বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগের দিনও ছিল বৈশাখের কাঠফাটা রোদ। নিয়মিত ফুটবল খেলা হলেও এবার চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা মেতে ওঠেন ব্যাট-বলের লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষ লিও ক্লাব অব চিটাগং ইম্পেরিয়াল সিটি।
বন্দরনগরীর অন্যতম দুই সামাজিক সংগঠনের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে গত ৩০ এপ্রিল পাঁচলাইশ কাতালগঞ্জের টুমোরো ল্যান্ড টার্ফে অনুষ্ঠিত হয় এই জমজমাট প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ।
প্রথমে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার অধিনায়ক নুরুজ্জামান খান। বিপক্ষ টিমের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন লিও ফয়েজুল ইসলাম। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই চার মেরে ইনিংসের দুর্দান্ত শুরু করে লিও ক্লাব অব চিটাগং ইম্পেরিয়াল সিটি। তবে সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথম ওভারেই দলীয় ১০ রানে রানআউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন লিও জুয়েল পাঠান। রানের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। একে একে সাজঘরে ফেরেন লিও ওমর হায়দার, ফয়েজুল ইসলাম, ইমন ও জয়। অপর প্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালিয়ে যান লিও সৌমেন বড়ুয়া। দলের বাকি সদস্যরা হলেন মুলতাজিম সাদিক ও আসিফ উদ্দিন। ৬ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে তাদের দলীয় সংগ্রহ থামে ৫৩ রানে।
৫৪ রানের টার্গেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভার অসাধারণ কাটায় চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। বন্ধু রিমুল মিয়াজির ব্যাট থেকে চারটি অসাধারণ চারে ১৬ রান যুক্ত হয় স্কোরবোর্ডে। তবে দ্বিতীয় ওভারে প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৩ রান যোগ করতে সমর্থ হন তাঁরা। সমীকরণ দাঁড়ায় ২৪ বলে ৩৫ রান। তৃতীয় ওভারে উইকেট পতনের পর চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম বন্ধুসভা, ভেঙে যায় পার্টনারশিপ। এরপর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন দুই ব্যাটার। সংকটময় মুহূর্তে হাল ধরেন বন্ধু মহসিন সিকদার ও রিমুল মিয়াজি।
রিমুল মিয়াজি ব্যক্তিগত ২৮ রানে আউটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরলে ততক্ষণে খেলা গড়িয়ে যায় শেষ ওভারে। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে জেতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ১৩ রান। শেষ ওভারের প্রথম বলেই দারুণ শটে বল বাউন্ডারি পার করেন মহসিন সিকদার। পরের বলে বোলারের লেগ স্টাম্পকে নিশানা করে ছোড়া বল ওয়াইডে পরিণত হয়। সেখান থেকে যুক্ত হয় অতিরিক্ত এক রান। যখন ৫ বলে প্রয়োজন ৮ রান সেই মুহূর্তে খেলা আরও জমে ওঠে। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলেই আউট হন মহসিন সিকদার। তখনো দলের প্রয়োজন ৪ বলে ৮ রান। দুই দলই যখন সতর্ক অবস্থায়, ঠিক সে সময় ফিল্ডারের ভুলে দুর্দান্ত একটি চারে ব্যবধান কমে এসে দাঁড়ায় ৩ বলে ৪ রান। চতুর্থ বলে ব্যাটসম্যানের অসাধারণ শটকে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে লাফ দিয়ে চার হওয়া থেকে আটকে দেন লিও ইমন। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ব্যাটসম্যান ২ রান নিতে সক্ষম হন।
ম্যাচ গড়ায় শেষ বলে, বেড়ে যায় নাটকীয়তা। বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ চোখ দিয়ে প্রস্তুত ফিল্ডাররা, যেভাবেই হোক রান দেওয়া যাবে না। বোলার প্রস্তুত উইকেট কিংবা ডট দেওয়ার জন্য। দুই পাশের ব্যাটসম্যান প্রস্তুত, বাউন্ডারি না হলেও অনন্ত দৌড়ে যাতে ২ রান পূর্ণ হয়। বোলার ছেড়েছেন বল, ব্যাটসম্যান ব্যাটে বল লাগিয়ে অপর প্রান্তে রান নিতে দৌড় শুরু করলেন, বল ততক্ষণে ফিল্ডারের হাতে। এক রান নিয়ে দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড় শুরু করলেন, ততক্ষণে বল চলে গেল কিপারের হাতে এবং রানআউট! টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ শেষ হলো সমতায়, যা শুরুতে কেউ ভাবতে পারেনি!
পুরো খেলায় দুটি দলই দেখিয়েছে অনবদ্য পারফর্ম্যান্স। আয়োজন প্রসঙ্গে লিও ক্লাব অব চিটাগং ইম্পেরিয়াল সিটির সভাপতি লিও ওমর হায়দার বলেন, ‘মাঠের ফলাফল সমতায় শেষ হওয়া প্রমাণ করে, আমরা সবাই সব সময় নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকি। মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি; সংগঠনদ্বয়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিই ছিল আজকের ম্যাচের মূল লক্ষ্য।’
বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা সামনের দিনগুলোতে খেলাধুলা এবং নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লিও ক্লাব অব চিটাগং ইম্পেরিয়াল সিটিকে পাশে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার দলে আরও ছিলেন বন্ধু শান্ত বড়ুয়া, আশরাফুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মাসুম ও মারুফ উল হক।
প্রচার সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা